ঈদের আমেজটা আজ শেষের পথে। দেখতে দেখতে ছুটির দিনগুলো নদীর স্রোতের মতো বয়েই যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ ঈদটা ছিলো অসাধারণ। তবে সময় যে ফুরিয়ে এসেছে, এবার যে বিদায়ের পালা। তাই বিদায়ের আগের দিনগুলো রঙিন করার শত চেষ্টা।
প্রতি প্রতি ঈদে কিছু ভালো সময় পার করতে আমরা বন্ধুরা মিলে এদিক - সেদিক ঘুরতে বেড়িয়ে পরি৷ কখনো বা পার্ক, কখনো বা নদীর তীর, আবার কখনোবা পাহাড়ের উচু চূড়াটা আমাদের গন্তব্য। তবে এই ঈদে আমাদের পরিকল্পনা ছিল একেবারে ভিন্ন। কোলাহল থেকে বেরিয়ে এবার আমাদের পছন্দের স্থান চাঁদপুর একটি সুন্দর গ্রাম।

অনেকের মুখেই শুনেছি গ্রামটি নাকি ভীষণ সুন্দর, যাবো যাবো বলে কখনো যাওয়া হয়ে ওঠেনি। তাই এই ছোট্ট স্বপ্নটাকে বাস্তবায়িত করার বৃথা চেষ্টা।
একদিন খুব সকালে কয়েকজন বন্ধু মিলে বেড়িয়ে পরি চাদপুড়ের ওই ছোট্ট গ্রামটির উদ্দেশ্যে। সিএনজিতে করে রাস্তার আশেপাশে জায়গাগুলো উপভোগ করতে করতে এগিয়ে চলা। দুই ঘন্টার পর আমরা পৌছে যাই আমাদের গন্তব্যে। আমার ছোট বোনের বাসায় আমাদের আতিথিয়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই টুরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো বোনের বাসা একটু ঘুরাঘুরি করে আশা।
বোনের বাসায় পৌছেই ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুরতে বের হওয়ার প্রস্তুতি চলছিলো, তার মধ্যেই বোনের কয়েকজন আত্মীয় বায়না ধরলো আমাদের সাথে ঘুরতে বের হবে৷ আমরাও আর বাধা দেয়নি, কেননা আমরাও এমন কাউকে খুজে বেড়াচ্ছিলাম এই এলাকাটা ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য। রাস্তাঘাট তো সব অচেনা, যদি না কোথাও হারিয়ে যাই।
ঘুরতে বের হয়ে গ্রামের আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে হেটেই এগোতে থাকি আমরা। বর্ষাকাল হওয়ায় রাস্তার আশেপাশের জায়গাগুলোতে পানি এসেছে। যা চারদিকের সৌন্দর্যটাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। তার মধ্যেই কয়েকদিন ধরে আকাটাও বেশ সুন্দর। সবদিক দিয়ে প্রকৃতি যেন সেজেছে অপূর্ব এক সৌন্দর্যে।

কিছুক্ষণ পর একটি বিশাল দীঘির সামনে দাঁড়িয়ে থান্ডা হাওয়া উপভোগ করতে থাকি সবাই। পাশা থাকা বোনের ননদ এবং অন্যদের সাথে আড্ডাটা বেশ ভালোই জমেছিলো। একটা সময় তাদেরকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া-দাওয়া শেষে আবারো বাসার দিকে ফিরতে হয়।
দুপুরের শেষদিকে পুকুরে গোসল আনন্দের মাত্রাটা আরো বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছিলো। কেননা কয়েক বছর হয়ে গেছে পুকরে গোসল করা হয়না। আজকে পুরুকে কিছুটা সময় সাতরেই হাপিয়ে পরে সবাই। তবে এই গরমের মধ্যে পুকুরে গোসল বেশ আরামদায়ক ছিলো।
রাতে সবাই একসাথে মিলে ছাদে বসে আড্ডা দেওয়া, বারবিকিউ পার্টি করা সবকিছুই ছিলো স্বপ্নের মত। এই সময়টাতো আর কখনো ফিরবেনা। তাই ভেবে বেশ খারাপও লাগছে।
যাইহোক, সকালে ঘুম থেকে ওঠে নাস্তা সেরেই আমারা ফিরতি পথ ধরি। আমাদের মধ্যে অনেক বন্ধু আজ ঢাকাতে ব্যাক করবে। সময় থাকলো আরো কয়েকটা দিন বেড়ানো যেতো। খুব ভালো একটা টুর ছিলো চাদপুরের মাঝিগাছা নামক ছোট্ট গ্রামটিতে।