আসসালামুআলাইকুম,
https://picsart.com/i/364636586000201
প্রতিটি মা চাই তার সন্তানের ইচ্ছে গুলো পূরণ করতে।অনেক বাবা-মা তার সন্তানের ইচ্ছা পূরণ করতে,পারে আবার অনেক বাবা-মা তা পারে না,তার কারণ হচ্ছে আর্থিক সংকট আর মনের ইচ্ছা বল। অনেক বাবারাই আছে তার কন্যাদের পছন্দ করেনা।আবার মুদ্রার উল্টো দিকটা আছে,অনেক বাবা আছে তার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে,তার কন্যা সন্তানদের ইচ্ছে পূরণ করার।আবার অনেক বাবা আছে তাদের পছন্দের তালিকায় ছেলে সন্তান। কিন্তু কোন মায়ের আলাদা পছন্দ নেই,ছেলে মেয়ে দুটোই তার কাছে সমান।
কিন্তুু উল্টোটাই ঘটেছে উর্মি জীবনে,
উর্মি জন্ম হওয়ার আগে থেকেই, উর্মি মা তার স্বামীকে সব সময় বলতো আমার কোন মেয়ে সন্তান জন্ম হলে আমি ওকে ফেলে আমার বাবার বাড়ি চলে যাব। উর্মি বাবা উর্মি মায়ের কথা শুনে সবসময়ই বলতো এসব তোমার পাগলামি কথা।একটা মা কখনো পারেনা তার সন্তানকে ফেলে চলে যেতে । এটাই তো সত্যি আপনারা বলেন কখনো কি একটা মা তার সন্তানকে ফেলে চলে যেতে পারে? বাবা পারে কিন্তু মা তা পারেনা।
আপনাদের শুনে খুব আশ্চর্য লাগছে তাইনা?
প্রথমে এই ঘটনাটি বিশ্বাস করিনি, যখন আমি উর্মি বাবার সাথে কথা বলেছি, তখন উর্মি বাবা আমাকে সব খুলে বলে উর্মি কেন এখন প্রতিবন্ধীর মত হয়ে গিয়েছে। উর্মি জন্ম হওয়ার আগে থেকে উর্মি মায়ে এই চিন্তা ভাবনা উর্মি বাবার পরিবারের মানুষগুলোকে খুবই চিন্তিত রাখত। উর্মি দাদি সবসময় বলত ছেলের বউ মনে হয় পাগল হয়ে গেছে, না হলে এসব আবোল-তাবোল কথা কেন বলছে।
কখনও কটকক্ষরে চিন্তা করতে পারেনি আসলে উর্মি মায়ের মুখের কথা মনের কথা ছিল। কারণ উর্মি জন্ম হওয়ার পরে উর্মি দাদা-দাদী বাবা সহ পরিবারের সবাই খুব খুশি ছিল, কারণ তাদের পরিবারের একমাত্র সন্তান। ধুমধাম করে উর্মি নাম রাখা হয়েছে, গ্রামের সব মানুষকে নাম রাখার দাওয়াত করেছিল। খুব খুশি ছিল প্রত্যেকটা মানুষ।এদিকে উর্মি মায়ে মনে হয় মোটেও খুশি ছিল না তার মেয়ে হয়েছে বলে।
তাই উর্মি জন্ম হওয়ার পর থেকেই উর্মির মা উর্মিকে অবহেলা করত, ঠিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করাত না।ঠিক ভাবে উমার যত্ন নিত। কেন এত অবহেলা করছে তার মেয়েকে বাবা জিজ্ঞেস করেছে, উমার দাদী-দাদ জিজ্ঞেস করেছে উর্মি মায়ের একটাই উত্তর আমি মেয়ে পছন্দ করিনা। তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে বলা হয়েছে উর্মি বয়স 10-12 বছর হলে তুমি না হলে চলে যেও, তারপরে তুমি বাচ্চাটাকে অবহেলা করনা।
কিন্তুু সেই মহিলা তা শুনে নিই,
উর্মি বয়স যখন এক বছর চলছিল, তখন উর্মিকে ফেলে চলে যায়। তারপর থেকে উর্মি জীবনটা মা হারা এতিমের মত হয়ে গিয়েছিল, সারাদিন কান্না করতো এটুকু দুধের বাচ্চা কিভাবে মাকে ছাড়া থাকে আর? এটা কেমন মা তার এই দুধের বাচ্চাটিকে ফেলে চলে গিয়েছে। উর্মি মা উর্মিকে ফেলে যাওয়ার পর থেকে, তার দাদী তাকে আদর যত্ন করে বড় করেছে।
মায়ের অভাবটা বুঝতে পারেনি কখন উর্মি, এদিকে উর্মির পাঁচ বছর চলছে। উর্মির বাবা ওর মায়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করে তারপর আবার বাবা বিয়ে করে। সৎ মা ঘরে আসার পর থেকে উর্মির জীবনটা ওলট-পালট হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত উর্মিকে অত্যাচার করত তার সৎ মা। এই অত্যাচারের কথা তার দাদিকে,তার বাবাকে কখনো বলতে পারতো না। উর্মিকে একবেলা খানা দিলে, আরেক খানা দিত না।এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একসময় উর্মি প্রতিবন্ধী হয়ে যায়।
উর্মি হাজার মানুষের ভালোবাসার ভিড়ে মনে হয়,তার মায়ের ভালোবাসা খুঁজতো।উর্মি সবসময় চিন্তা করত মায়ের ভালোবাসাটা কে এমন? কারণ উর্মি তো কখনো তার মায়ের ভালোবাসা পায়নি। নিজের মায়ের অবহেলা সৎ মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে উর্মি আজ মানসিক ভারসাম্যহীন ।
উর্মির বয়সী মেয়েরা যখন স্কুলে কলেজে পড়ছে, তখন উর্মি ঘরে শিকলবন্দি হয়ে পড়ে আছে।একাকি অন্ধকার রুমে কোনো সঙ্গী নেই,কোনো আপন মানুষ নেই,কোনো মমতাময়ী মায়ের ভালোবাসার হাত। এভাবে হয়তো উর্মি আর কিছু দিন পৃথিবীতে বাঁচবে। উর্মিকে যারা অবহেলা করেছিল,অত্যাচার করেছিল,তারা সুখে অনেক আনন্দে আছে।
উর্মি বলে কেউ একজন আছে সে কথা ওরা ভুলে গেছে, আর দুকেদুকে অন্ধকার রুমে শিকলবন্দি অবস্থায় তার জীবন কাটছে।উর্মি বাবার থেকে ওর কথা শুনে অনেক খারাপ লেগেছে আমার, কারণ উর্মি ছিল হাস্যজ্জল অসাধারণ সুন্দরী একটি মেয়ে । উর্মি উপর কতটা অত্যাচার করা হয়েছে যার কারণে সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়েছে?সেই চিন্তাটা করে চোখ দিয়ে জল এসে যায়।
তবে উর্মির বাবা মেয়েকে সুস্থ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। উর্মির বাবার থেকে শুনেছি তার সৎ মাকে নাকি তালাক দিয়ে দিয়েছে এই কথা শুনে। জানিনা উর্মি কখনো সুস্থ হবে কিনা তবে? তবে ওর বাবাকে বলেছি উর্মি অবশ্যই সুস্থ হয়ে যাবে।
আমাদের সমাজে অনেক অনেক মানুষ আছে, মানসিক চিন্তায় ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। তাদেরকে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিলে, অবশ্যই তারা সুস্থ হয়ে তাদের সুন্দর জীবনে ফিরে আসতে পারবে।
ধন্যবাদ,