"পথচারী পুরুষের দৃষ্টি"

in BDCommunity2 months ago

রাস্তাঘাটে পায়ে হেঁটে চলার সময় আমি সবসময় একটা জিনিস পর্যবেক্ষণ করি।বেপারটা হচ্ছে পুরুষ মানুষের দৃষ্টি।নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে শহরের পথচারী পুরুষদের দৃষ্টি।শুধু পথচারী নয়,যারা বাসে,বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করে তারাতো আর চোখ বন্ধ করে রাখে না তাদেরও দৃষ্টি রয়েছে।তবে তাদেরটা কম লক্ষ্য করা যায়,কারণ যানবাহন চলমান থাকে,তবে গণপরিবহনগুলোর ভিতরে তাদের দৃষ্টির বেপারে আমার পর্যবেক্ষণ আরও বেশি কৌতূহলোদ্দীপক।আর এই পর্যবেক্ষণ আমি করে আসছি সেই যখন থেকে আমার জ্ঞান হয়েছে,বিশেষ করে বয়ঃসন্ধির পর থেকে।

এইযে পুরুষ পথচারী রাস্তা কিংবা ফুটপাতে চলার সময় তাদের বেশিরভাগের দৃষ্টি কোথায় থাকে?স্বাভাবিকভাবে ফুটপাত বা রাস্তাতে থাকার কথা।কিন্তু না তাদের দৃষ্টি থাকে ঐ ফুটপাত দিয়ে চলাচল করা কোনো নারীর দিকে।

ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট সেই ভোর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত খুব ভীড় থাকে।আর ভীড়ে চলাচলকারী পথচারী পুরুষ যেমন থাকে নারীও থাকে।এমন কোনো রাস্তা নেই যেখানে শুধু পুরুষ চলাচল করছে বা এমনকোনো রাস্তা নেই যেখানে নারীরা চলাচল করছে।সুতরাং নারী-পুরুষ একসাথে চলাচল করছে।চলার পথে রাস্তাতেতো তাকিয়ে চলতে হয়,আর পুরুষ মানুষরা তাকিয়ে থাকে তার আশপাশে চলাচল করা নারীর দিকে।

অনেকেই বলতে পারে,আরে এটা কি ধরনের অপ্রয়োজনীয় কথা,যা খুশি তা বললেই হলো।যা মনে আসছে,তাই বলে যাচ্ছে।আর এই অদরকারী কথা বলারই বা কি দরকার!
বেপারটা আসলে যদি ব্যাখ্যা করি তাহলে বুঝা যাবে।আর এটা আমার অনেক দিনের পর্যবেক্ষণ,আর যদি বিশ্বাস না হয়,তাহলে রাস্তায় বের হলেই দেখতে পাওয়া যাবে সত্য নাকি মিথ্যা।

ঢাকার রাস্তায় চলাচল করা মানুষজন খুব ব্যস্ত।লোকে বলে,কারো দিকে কারো তাকানোর সময় নেই।রাস্তায় "মলম পার্টি"র আক্রমণের শিকার হয়ে কেউ যদি অজ্ঞান হয়ে পরেও থাকে,তাকে দেখার সময় কারো নেই।এই অজ্ঞান ব্যক্তির উপর দিয়েই সবাই চলা শুরু করে,তার হাতে সময় খুব কম,অফিসের প্রবেশের সময় পার হয়ে যাচ্ছে,স্কুল-কলেজের শুরুর ঘন্টা এতোক্ষণে বেজে গিয়েছে,হাসপাতালে রোগী ভর্তি দ্রুত তার জন্য ঔষধ নিয়ে যেতে হবে, ধীরে চললে হবে না,থামলেতো হবেই না।চলতে হবেই,রাস্তায় থামার সময় নেই গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছাতে হবে।কিন্তু এতো ব্যস্ততার মধ্যেও পুরুষ মানুষ না জানি কেনো,কিছুক্ষণের জন্য তার আশপাশে চলা নারীর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ভুলিয়ে নেয়।

আমি এই বেপারটা সবসময় খুব উপভোগ করি।এই ধরা যাক,ফুটপাতে চলার সময় আমার সামনে বা পিছনে বা আশপাশে কোনো মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে,আমি যেদিকে যাচ্ছি ওনি ও সেদিকেই যাচ্ছে।তখন আমি কি করি,আমার সামনে থেকে আসা প্রত্যেকটা পুরুষের চোখের দিকে তাকিয়ে তাকি।তারা সেই মেয়েটার দিকে তাকাবেই তাকাবে,পার হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাকিয়ে তাকবে।যদি সুন্দরী হয় তাহলেতো ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে তাকবে।ঐ আশপাশের কোনো মেয়ে সুন্দরী কিনা এটা ঐসব পুরুষের দৃষ্টি পড়েই আমি বুঝতে পারি।আর যদি মেয়েটা বাঙালি সংস্কৃতির বাহিরে কোনো পশ্চিমা পোষাক পড়ে থাকে, তাহলেতো আর কথাই নেই,তখন সেইসব পুরুষদের চোখের দিকে তাকালে দেখা যায়,তাদের "আইবল" দুটো উপর থেকে নিচে নামছে,মানে মেয়েটার আপাদমস্তক দেখে নিলো।আর সে ক্ষেত্রে তারা মেয়েটাকে ক্রস করে যাওয়ার পর একবার ঘাড় ঘুরিয়ে থাকাবে।

এই ক্ষেত্রে বয়সেরও একটা বেপার আছে,আমার পর্যবেক্ষণ বলে কম বয়সী ছেলেরা রাস্তাঘাটে চলা তার আশপাশের মেয়েগুলোর দিকে নজর দিয়েই চলে যায়,তাদের দৃষ্টিতে এতো গভীরতা থাকে না,কিন্তু মধ্যবয়সী বা শেষ বয়সী পুরুষরা মেয়েদের দিকে,বিশেষ করে পশ্চিমা পোষাক পড়া মেয়েদের দিকে এমন দৃষ্টি দেয় যা সাগরের থেকে গভীর।

ফুটপাতে একটা চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে যখন একটা চাওয়ালা চাচার দৃষ্টি পর্যবেক্ষণ করি তখন বেপারটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে।চায়ের কাপে চামচ দিয়ে চিনি দিতে দিতে তিনি খুব সুন্দরভাবে ফুটপাত দিয়ে চলা রমণীদের আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে নিচ্ছেন।মাঝেমধ্যে দৃষ্টি একটু ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে,তখন বুঝলাম না মেয়েটাকে তেমন পছন্দ হয় নি।মাঝেমধ্যে দেখা যাচ্ছে,ফুটাপাতের যে জায়গা টা তার দোকান থেকে দেখা যায়,সেখান থেকে দৃষ্টি দেওয়া শুরু করে,শেষ করছেন একশো আশি ডিগ্রি কোণে ফুটপাতের শেষ মাথায়,তখন বুঝলাম না তাহলে মেয়েটা হয়তো খুব সুন্দরী ছিলো বা পশ্চিমা পোষাক পড়া ছিলো।

বাসে পুরুষদের দৃষ্টিগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়,বাস থামলো, নতুন যাত্রী উঠবে,এখন নতুন যাত্রী যদি পুরুষ হয় তাহলেতো আর দেখার কিছু নেই,বেটা কোথায় বসলো না বসলো দেখার দরকার কি!কিন্তু যখনি একটা মেয়ে মানুষ উঠলো,মেয়েটা আবার কমবয়সী,হয়তোবা সুন্দরী,হয়তোবা আধুনিকা তখন মেয়েটা বাসে পা দানিতে পা দেওয়ার পর থেকে সিটে বসার আগ পর্যন্ত বেশিরভাগ পুরুষের দৃষ্টি তাকে তার দিকে,আহা বেচারী সিট পেলো কিনা!ভালোভাবে বসতে পারলো কিনা!কোনো সমস্যায় পড়লো কিনা দেখতে হবে না!তবে সুন্দরী না হলে সেটা ভিন্ন হিসাব।যখনি দেখি সব পুরুষরা হাহাকারময় দৃষ্টি দিচ্ছে তখনই বুঝতে পারি এই নিশ্চয়ই কোনো সুন্দরী মেয়ে উঠেছে বাসে।

তবে সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন হওয়াতে এখন তাদের দৃষ্টির বিস্তৃতি একটু কম হয়।কারণ এখন দৃষ্টিকে সন্তুষ্ট করার রসদ ঐ স্মার্টফোনেই রয়েছে কিনা!

আমি আজ, এমন ''রাস্তাঘাটে পুরুষের দৃষ্টি'' নিয়ে কেনো পড়লাম!অভিযোগ হতে পারে,আরে ভাই,পুরুষ মানুষতো মেয়েদের দিকেই তাকাবে, তোমার দিকে তাকাবে নাকি!আরে যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে তাকাক,এটা তাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছা,সৃষ্টিকর্তা তাদের চোখ দিয়েছেন, চোখ দিয়ে যেদিকে ইচ্ছে সেদিকে তাকানোর স্বাধীনতা দিয়েছেন।যার দিকে ইচ্ছা তার দিকে তাকাবে,আমার কি!
আমার কিছুই না,বেপারটাকে আমি খুব উপভোগ করে পর্যবেক্ষণ করিতো,তাই বলা আরকি।আসলে যখন থেকে বুঝি এসব বেপার,তখন থেকে এই পুরুষের দৃষ্টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে আসছি,যদিও আমিও পুরুষ।তবে সবাই আমার এই বলা পুরুষদের মতো হবে এমন না,কিছু ব্যতিক্রমতো থাকবেই,স্রোতের বিপরীতে চলা মানুষতো থাকবেই,থাকতেই হবে!

photo-1511109918392-06b364875b26.jpeg

Sort:  

Congratulations @shaonashraf! You have completed the following achievement on the Hive blockchain and have been rewarded with new badge(s):

You have been a buzzy bee and published a post every day of the week.

You can view your badges on your board and compare yourself to others in the Ranking
If you no longer want to receive notifications, reply to this comment with the word STOP

Support the HiveBuzz project. Vote for our proposal!

You post has been manually curated by BDVoter Team! To know more about us join our Discord.


Delegate HIVE POWER to us & earn HIVE daily.

500 HP1000 HP2000 HP5000 HP10000 HP15000 HP20000 HP

FOLLOW OUR HIVE AUTO CURATION TRAIL