"তুলনা"র ভালো খারাপের তুলনা

in BDCommunity2 months ago

কোনো দুটো বিষয়ের পার্থক্য বা সমতা বের করার জন্য ঐ দুটো জিনিসের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করার বেপারটাকে বলে তুলনা।তুলনা হতে পারে যেকোন জিনিস,যেকোনো অবস্থান এবং যেকোনো মানুষের মধ্যে।অবশ্য অনেকে বলে যে তারা তুলনা করা পছন্দ করে না,তার সাথে কারো তুলনা দিবে মানে তার দোষ-গুন বৈশিষ্ট্যের সাথে আরেকজনের বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য, বৈসাদৃশ্য তুলে ধরা হবে এটা তারা চাইনা।এরা এটাও বলে যে,আমি আমার মতো,কারও মত না।এটা বলে তারা নিজেকে ইউনিক হিসাবে প্রচার করার চেষ্টা করলেও নিজেই নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করে ফেলে।আসলে তুলনা ছাড়া এই পৃথিবীর কোনো কিছুই বুঝা যাবে না।

একজন মানুষের বৈশিষ্ট্য আরেকজন মানুষের বৈশিষ্ট্যের সাথে যখন এক করা হয়, হয়তো মিল-অমিল খুঁজে বের করার জন্য তখনই বেপারটাকে তুলনা বলে।
রাতের চেয়ে দিনকে আমরা বেশি পছন্দ করি।কারণ রাতে অন্ধকার থাকে,কোনো কাজ নির্ভয়ে করা যায় না,কিন্তু দিনের বেলা আলোর মধ্যে মনে সাহস থাকে।আর মনের সাহস থাকলে নাকি যেকোন বেপার খুব সহজ হয়ে যায়।তো দিনের বেলার বেপারে যে পজিটিভ ধারণা আমরা পেলাম এটা কিভাবে পেলাম!এটা আমরা পেয়েছি রাত এবং দিনের তুলনা করার মাধ্যমে।এখন যদি শুধু রাত থাকতো,সারাবছরই শুধু রাত,মানবজাতি শুধু এইটুকুই জানে যে পুরো পৃথিবী সবসময় অন্ধকারই থাকে।মানে তখন রাত এবং দিনের মধ্যে পার্থক্য বা মিল খুঁজার কোনো মানদণ্ড নেই।রাতের পর যে দিন আসে, দিন ভালো নাকি রাত সেটা তারা কখনও বুঝতেই পারবে না।

ছোটকাল থেকে বাংলা ব্যাক্যারণ বই এ একটা সারাংশে পড়া হয়েছিলো এমন যে,কালো আছে বলেই সাদাকে মানুষ এতো মূল্যায়ন করে।এখন কালো যদি না থাকতো,তাহলেতো আর এমন ভাবার কোনো উপায় ছিলো না,তুলনা করা যেতো না।আর তখন এটা নিয়ে কোনো আলোচনাই হতো না।

তুলনা করার মাধ্যমে যে শুধু কোনো জিনিসের খারাপ বেপারটা প্রকাশ হয় এমন নয়।কারণ তুলনা করার দুটো দিকই রয়েছে,ভালোদিকও মন্দদিকও।এখন একটা বৈশিষ্ট্য হয়তো কারো ভালো,আরেকজনের ভালো না,এখন তাদের মধ্যে যদি তুলনা করা হয়,তখন দেখা যাবে যার বৈশিষ্ট্যটা তেমন ভালো ছিলো না,তার একটু মন খারাপ হবে এবং তার মনে তুলনা করার প্রতি বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করবে।কিন্তু এর বিপরীত দৃশ্যও রয়েছে।যে ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যটা তুলনামূলকভাবে ভালো ছিলো,সে কিন্তু খুশি হয়ে গেলো।সে চাইবে যে এমন তুলনা যাতে প্রতিনিয়ত হয়।

মানুষ নিজেকে সেরা অবস্থানে দেখতে পছন্দ করে।কিন্তু তুলনা করার মাধ্যমে অনেকসময় এই অবস্থানটা স্থানচ্যুত হয় বলেই তুলনা করাকে অনেকে পছন্দ করে না।

তবে তুলনার নির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড নেই,যেকোনো সময় একি জিনিসের বেপারে তুলনার মানদন্ড,ফলাফল বিভিন্ন বিষয়ভেদে ভিন্ন হতে পারে।কথাটা জটিল হয়ে যাচ্ছে।উদাহরণ দিলে বেপারটা সহজ হবে।
যেমন কোনো একটা বিদ্যালয়ের কোনো শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী যে কিনা অন্য সব শিক্ষার্থীর চেয়ে পড়ালেখায় ভালো,বুদ্ধিমান তাকে ঐ শ্রেণির জন্য শিক্ষকরা বলবে শিক্ষার্থীটা খুব মেধাবী।এখন ধরা যাক,এই শিক্ষার্থী তখন ঐ বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে অন্য কোনো নামি বিদ্যালয়ে ভর্তি হলো।যে শ্রেণীতে ভর্তি হলো, তার প্রতিটা শিক্ষার্থী ঐ শিক্ষার্থী যে কিনা বিদ্যালয় বদল করে এসেছে তার থেকে শতগুণে বেশি বুদ্ধিমান,পরিশ্রমী।তখন ঐ শিক্ষার্থীকে ঐসব মেধাবীদের তুলনায় বলা হবে জ্ঞানহীন,গাধা।অথচ একি মানুষ,একি জ্ঞান শুধু স্থানের পরিবর্তন এবং তুলনার বিষয়বস্তুর পরিবর্তনের কারণে তার বৈশিষ্ট্যই পরিবর্তন হয়ে গেলো।বৈশিষ্ট্যতো আর পরিবর্তন হয়নি কিন্তু মানুষের দেখার দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টে গিয়েছে।

যেমন একটা কথা আছে,যে বনে সিংহ নাই,সে বনে শিয়ালই রাজা।এর মাধ্যমেও তুলনা করার বেপারটা চলে আসে।বনে বসবাসরতো অন্য সব ছোট প্রাণীর মধ্যে শিয়ালের বুদ্ধি বেশি,তাই তখন শিয়ালই রাজা।কিন্তু যখন সিংহ চলে আসবে,সিংহের সাথে তুলনা করবে তখন সিংহই রাজা আর শিয়াল প্রজা।তুলনার মাধ্যমেই এটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসব কারণে তুলনা করার মাধ্যমে দেখা যায়,স্থানবেদে মানুষের পদবী পাল্টে যায়।যে কিনা তার গ্রামে রাজা,সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি।এক আধুনিক শহরে আবার সে ই বোকা।অথচ এসব ক্ষেত্রে তার জ্ঞানের কমবেশি ঘটেনি,একি ছিলো দুটো সময়েই।
ঠিক তেমনি তুলনার মাধ্যমে মানুষের অবস্থান খুব সহজেই পাল্টে যায়।

IMG_20220710_134539.jpg