"অন্ধ দৃষ্টিভঙ্গি"

in BDCommunity2 months ago

আমরা চোখ দিয়ে যা দেখি সেটা আমাদের দৃষ্টি। আমাদের সামনে যা পরে দৃষ্টি দিয়ে আমরা তা দেখি। কিন্তু যা দেখি তা থেকে আমরা যখন কোনো ধারণা সৃষ্টি করি সেটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা নির্ভর করে মানুষের ব্যক্তিত্বের উপর। দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা খাদ্যাভাসের মতো ছোট বেলা থেকে যে যেমন খাবার খেয়ে অভ্যস্ত তার সে ধরনের খাবার খেতেই ভালোবাসে।কোনো দিন মুজুরকে যদি পোলাও, মাংস, বিরিয়ানি খেতে দেন এক বেলা শখ করে খাবে, দ্বিতীয় বারও খাবে তৃতীয় বার সে আর খেতে চাইবে না। ডাল, ভাত,মাছ, শুটকি এসবি তার প্রিয়। তা খেতেই সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক একিরকম একটা বিষয়। যে যেমন পরিবেশের মধ্যে বড় হয়, যার উপর যেভাবে সামাজিক প্রভাব পরে তার তেমনি দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি হয়। আমার প্রিয় শিক্ষক বলেছিলেন ছোট্ট একটা শিশু কাঁদা মাটির মতো।কাদা মাটি টিপে তুমি যেমন আকার দিবে তা সেই আকার ধারণ করবে। তুমি যত দক্ষ হবে তা ততো সৌন্দর্য মন্ডিত হবে।আবার এর আকার কি হবে সেটা ও তোমার ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। কুকুর, বিড়াল নাকি পুতুল। ছোট্ট একটা শিশু ও তেমন তাকে তুমি ভবিষ্যতে যেমন দেখতে চাও তেমনি হবে সে।হঠাৎ করে কোনো কিছু পরিবর্তন হয় না।

আজকাল প্রায়ই শুনি দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাও সমাজ পাল্টে যাবে। হ্যাঁ কথাটা সত্য। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে অনেক কিছু পাল্টে যাবে। কিন্তু শুধু বিলবোর্ডে স্লোগান লিখে দিলে দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টে যাবে,ব্যপারটা এতো সহজ নয়। দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তন করতে হলে আমাদের পরিবার থেকে শুরু করতে হবে। কারণ পরিবার সমাজের ক্ষুদ্র অংশ। নৈতিক বলেন, সামাজিক বলেন, ধর্মীয় বলেন আর রাষ্টীয় সব শিক্ষা এখান থেকেই শুরু হয়। কয়েকটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যাবে।

আমার একজন পরিচিত মেয়ে বয়স আঠারো কি উনিশ হবে। পড়াশোনায় খুব ভালো। গ্রামের কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৪.৮ জিপিএ পাওয়া, মানে ভালো ছাত্রী। তার পরিবারে মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে।যেমন ধরেন মেয়েরা শিক্ষিত হয়ে কি করবে সেইতো রান্নাবান্নায় করতে হবে ইত্যাদি আরও অনেক কথা।ও শিক্ষিত হয়েছে কিন্তু তার ভিতরে এ কথাটায় গেঁথে গেছে।এইচ.এস.সি পাশের পর ও আর পড়বে না।মানে মা বাবা বিয়ে দিয়ে দিবে, সে তাতেই রাজি।

এখন ওকে বিয়ে দিতে তিন লাখ টাকা যৌতুক লাগবে তাতেও খুশি। আমার বিষয়টি খারাপ লাগলো ওকে বলতে গেলাম এতো টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে করার কি দরকার। পড়াশোনাটা শেষ করো।ও আমাকে বলে কি হয়েছে তাতে সবাইকে এভাবেই বিয়ে দিতে হয়। আপুকে ও যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিয়েছে। আপুতো সুখেই আছে। তাকে আপনি কি বুঝাবেন। সুখের মানে আসলে কি? যথারীতি তার বিয়ে হয়ে গেলো। গত সপ্তাহ থেকে ও খুব অসুস্থ। এখন ওর চিকিৎসা করতে হবে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে চিকিৎসা করতে টাকা লাগবে সেটা কে দেবে স্বামী দিবেনা বাবাও দিবেনা। কথাটা শুনে আমার কাছে অমানবিক মনে হলো। তাই আবার বলতে গেলাম এখনো সময় আছে পড়াশোনাটা শেষ করো। ও তাচ্ছিল্লের স্বরে বললো মেয়ে মানুষের কপাল কি দিয়ে পাল্টাবে। বুঝলাম ওর কাছে খুবই তুচ্ছ বিষয়। ও মেয়ে মানুষ সম্পর্কে এমন ধারণা নিয়েই বড় হয়েছে।

বিলবোর্ডের স্লোগান পারবেতো ওর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে?আমাদের এক প্রতিবেশী প্রতিদিন তার বৌকে ধরে পিঠাই। আমার খুব খারাপ লাগে ঐ দিন শুনি ওনার বৌ বলতেছে পুরুষ মানুষ এমনই হয়। "পেটে খাইলে পিঠে শয়"। সেদিন আমি চুপচাপ দশ মিনিট বসে ছিলাম। কিছুই ভাবতে পারিনি।

তাই আমার মনে হয় দৃষ্টি ভঙ্গি মিছিল, মিটিং কিংবা স্লোগান দিয়ে বদলানোর বিষয় নয়।দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টাতে হলে সামাজিক কাঠামো পাল্টাতে হবে আবার সামাজিক কাঠামো তখনই পাল্টানো সম্ভব হবে যখন তা পরিবার থেকে শুরু হবে।

_edba1af0-9abf-11e6-84cd-7afcc7591aa7.jpg