রবিবারের রম্যগল্প: কুদ্দুস মিয়ার ব্যাংক একাউন্ট || SundayFun

in BDCommunity3 months ago

images 6.jpeg


২০৫০ সাল।

কুদ্দুস মিয়া ব্যাংকে গিয়েছে টাকা তুলতে। এমনি যায় নি। অ্যাকাউন্ট খুলেতে বাধ্য হয়েছে। অফিসের নির্দেশ। বেতন ব্যাংকে হবে।

সব কিছু অটোমেশন। ব্যাংকের সামনে দাড়াতে দরজা খুলে গেল। ঢোকার সাথে সাথেই ঠাস করে বন্ধ হয়ে গেল। পিছনে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল কুদ্দুস মিয়া। মনে হচ্ছে যেন বন্দী হয়ে গেছে। কেমন দমবন্ধ লাগছে!

একটা রোবট এসে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, গুড মর্নিং স্যার, গুড মর্নিং স্যার।

এই এক সমস্যা। রোবটগুলো অটিস্টিকদের মত সব কথা দুইবার করে বলে। নিশ্চয়ই কোন অটিস্টিক এদের প্রোগ্রামিং করেছে। অবশ্য অটিস্টিক ছাড়া রোবট বানাতে যাবে কে?

কুদ্দুস মিয়া রোবটের দেওয়া শুভেচ্ছা অগ্রাহ্য করে বলল, ক্যাশ কাউন্টার?

রোবটটি ডান দিকে হাত তুলে দেখিয়ে বলল, তিন নাম্বার ডেস্ক, তিন নাম্বার ডেস্ক।

কুদ্দুস মিয়া দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বলল, যা ভাগ।

রোবটটি বলল, ধন্যবাদ স্যার। ধন্যবাদ স্যার।


কুদ্দুস মিয়া ব্যাক্তিগত ভাবে রোবট ভীষণ অপছন্দ করে। এর একটা পটভূমি আছে।

একবার একটা দোকানে আগুন লেগেছে। দোকানের মালিক সিকিউরিটি রোবটকে অর্ডার করল, পানি নিয়ে আসো। ইমারজেন্সি।

কুদ্দুস মিয়া পাশেই পার্কে গাছতলায় হিসি দিচ্ছিলো। পার্কের রোবটগুলোর দৃষ্টি এড়িয়ে এই কাজটা সে প্রায়ই করে। এটা তাকে শৈশবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এক ধরনের নস্টালজিয়া।

সে যখন হিসি দিচ্ছিলো, দোকানের সিকিউরিটি রোবটটা এসে তাকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে গেলো। নিয়ে গিয়ে দোকানের সামনে ধপাস করে ফেললো। আর যান্ত্রিক স্বরে বলতে থাকলো, Source of water. Source of water.

সেই থেকে কুদ্দুস মিয়া রোবট সহ্য করতে পারে না। দেখলেই মাথা গরম হয়ে যায়।


আজকেও মাথা গরম হয়ে আছে। সে চেক প্লেস করেছে কাউন্টারে। ক্যাশিয়ার রোবটটা বলছে, Sign not match, sign not match.

ঘটনা হল, কুদ্দুস মিয়া সব সময় সাইনের নিচে তারিখ দেয়। একাউন্ট ওপেনের দিনের সাইনের যে তারিখ ছিল, সেটার সাথে আজকের তারিখ মিলছে না।

যেহেতু সাইনের সাথে যা কিছুই লেখা হয়, সেটা সাইনের অংশ হয়ে যায়। তাই বেচারা ক্যাশিয়ার রোবট সাইন মেলাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

কুদ্দুস মিয়া চেকটা ছিড়ে ফেলে দিলো। নতুন একটা চেক নিয়ে যত্ন করে আবার সাইন দিলো। এবারেও তারিখ মিললো না। ক্যাশিয়ার রোবটটা বলছে, Data not matched. Data not matched.

কুদ্দুস মিয়া বললো, দূরে গিয়া মর।

ক্যাশিয়ার রোবটটা জবাব দিলো, Not possible. Not possible.

কুদ্দুস মিয়ার মাথা আবার গরম হয়ে গেল। কষে একটা চর বসিয়ে দিলো ক্যাশিয়ার রোবটটার গালে।

কুদ্দুস মিয়া অবাক হয়ে দেখলো- চর খেয়ে রোবটটা বলতে শুরু করেছে, Data matched. Data matched.

images 7.jpeg


আসল ঘটনা হল- কুদ্দুস মিয়া যখন চর দেয়, রোবটটার বডিসেন্সর তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান করে ডাটা বেইজের সাথে মিলিয়ে দেখে। মিল পেয়ে চেক এক্সেপ্ট করে এবং টাকা দিয়ে দেয়।

কুদ্দুস মিয়া এরপর থেকে যখনই ব্যাংকে আসে, চেক দেওয়ার পাশাপাশি ক্যাশিয়ার রোবটকে কষে একটা চর দেয়।

আর ক্যাশিয়ার চড় খেয়ে 'Data matched. Data matched' বলতে বলতে তাকে টাকা দিয়ে দেয়। কেন দেয়, এটা কুদ্দুস মিয়ার কাছে রহস্য থেকে যায়।

কুদ্দুস মিয়া তখন মনে মনে ভাবে, মাইরের উপরে কোনো ওষুধ নাই।


Let Have The Story at English

images 2.jpeg


Year 2050. In Bangladesh.

Quddus Mia have come to the bank with his chequebook to withdraw money. Though he didn't opened account by self wish. Account has been forced to open. As per office instructions. All salary will be paid by the bank.

Everything is in automation. The door opened to stand in front of the bank. As soon as he entered, it closed tightly. Looking back, Quddus Mia sighed. It looks like a sack that encloses with a drawstring. How suffocating!

A robot has come and raise his hand saying, Good morning sir. Good morning sir.

This is a problem. Robots say everything twice like autistic people. Surely an autistic has programmed them. Of course, who can make a robot without autistic persons?

Quddus Mia ignored the robot's greetings and said, where is the withdrawal counter?

The robot raised his hand to the right and said, Desk number three. Desk number three.

Quddus Mia gritted his teeth and said, which is shared. The robot said, *Thank you sir. Thank you sir.


Quddus Mia personally dislikes robots. It has a background..

Once a shop caught fire. The shop owner ordered the security robot to fetch water as emergency.

Quddus Mia was peeing under a tree in the park close to the shop. He often does it secretly avoiding the sight of the security guard robots in the park. It reminds him about his childhood. A kind of nostalgia.

While he was peeing, the security robot of the shop came and picked him up. A few minutes later he was thrown in front of the shop. And the mechanical voice was saying, Source of water. Source of water.

Since then, Quddus Mia has not been able to tolerate the robot. Whenever he see any of them, he losses his temper.


Even today his head is hot. He has placed the check at the counter. The cashier robot says, Sign not match. Sign not match.

The fact is, Quddus Mia always puts the date under the sign. Today's date does not match the date on which the account was opened and signed.

As anything written with a sign becomes a part of the sign, the cashier robot is failing to match the sign due to dissimilarities between date putting on the bottom of the sign.

Quddus Mia tore up the check. Carefully took a new check and signed again. This time the date did not match again. The cashier robot is saying again, Data not matched. Data not matched.

Quddus Mia said, Go to the hell.
The cashier robot replied, Not possible. Not possible.

Quddus Mia's head became hot again and slap on cheek of the robot.

Quddus Mia was surprised to see the robot starting to say, 'Data matched. Data matched'.

images 9.jpeg


The fact is that- when Quddus Mia slapped the robot, the robot's body sensor scaned his fingerprint and match it with the data base. After receiving the match, he accepted the check and paid.

From then, whenever Quddus Mia came to the bank, he would give a check as well as a hard slap to the cashier robot. And the slapped cashier gives him money.

But how! Still now it is a mystery to Quddus Mia. Now Quddus Mia thinks himself, There is no medicine except slapping.


আমি প্রতি রবিবার একটি করে রম্য গল্প লিখছি #bdcommunity - তে। এতে কুদ্দুস মিয়া চরিত্রটির বিভিন্ন হাস্যরসাত্মক কর্মকাণ্ডে বিনোদনের পাশাপাশি স্যাটায়ার হিসেবে সমাজের অনিয়ম তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। সবগুলো লেখায় #sundayfun ট্যাগ ব্যবহার করব, যাতে পাঠকগণ চাইলেই রম্যগল্পগুলি সহজে খুঁজে পান। এই প্রকল্পের আরেকটি গল্প আজ লিখলাম। নির্মল বিনোদনের জন্য আগের গল্পগুলোও চাইলে পড়তে পারেনঃ

কুদ্দুস মিয়ার ডায়াগনোসিস

ঘটক পশু ভাই

20200627_034755.jpg


আত্মকথনঃ

poster_1593196763985_rd7uzi0du0.gif

আমি ত্বরিকুল ইসলাম। সখের বশে ব্লগিং করি। ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে আগ্রহী।



"পড়াশোনায় ইঞ্জিনিয়ার। পেশায় শিক্ষক। নেশায় লেখক। সাবেক ব্যাংকার। পছন্দ করি লিখতে, পড়তে, ভ্রমণ করতে এবং জমিয়ে আড্ডা দিতে।"


        জীবনটাকে অনেক অনেক ভালোবাসি
Sort:  

This post has been manually curated by @sayee from Indiaunited community. Join us on our Discord Server.

Do you know that you can earn a passive income by delegating to @indiaunited. We share 80 % of the curation rewards with the delegators.

Here are some handy links for delegations: 100HP, 250HP, 500HP, 1000HP.

Read our latest announcement post to get more information.

image.png

Please contribute to the community by upvoting this comment and posts made by @indiaunited.

It's my pleasure to be curated by @indiaunited

হাহাহা! ভালো ছিল গল্পটা। Source of water🤣 এই জায়গা টা এপিক ছিল।

ধন্যবাদ @minhajulmredol, আমি নিজেও লেখার সময় অনেক হেসেছি।

He he, that was really funny. Keep writing

Thanks a lot @sayee, your comments always inspire me.

That park moment specially source of water 🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣 too funny....

🤪🤪🤪🤪