অভিমানে ঘর ত্যাগ

in BDCommunity5 years ago (edited)
চৌদ্দ বছর বয়সের এক কিশোর হাসান, তার বাবা, মা ও পাঁচ বোনের সাথে নদীর ধারের একটি ছোট্ট গ্রামে বসবাস করত। তার পরিবারটি অনেক হত-দরিদ্র একটি পরিবার। তার বাবা হলেন একজন কৃষক। তার বাবা পিতৃসূত্রে নদীর ধারে বিলের মধ্যে এক বিঘা জমি পেয়েছিল। সেই জমিতে তার বাবা ও সে মিলে একসাথে বিভিন্ন রকমের সবজির চাষ করে ও তা গ্রামের বাজারে বিক্রি করে কোনো রকমে তাদের পরিবারের আহার যোগান করে। প্রতিদিন ফজরের আযানের পর তার বাবা জমি থেকে সবজি কেটে, তা তার ছেলেকে দিয়ে বাজারে বিক্রির জন্য পাঠাত। সে তা বিক্রি করে যে টাকা পেত, সে টাকা দিয়ে ঘরের জন্য চাল-ডাল কিনে আনত। বাজার থেকে ফিরে সে, হাত-মুখ ধুয়ে না খেয়ে স্কুলে যেত।দুপুরে টিফিন পিরিয়ডে বাড়িতে এসে খাবার খেত। বিকাল হলে সে গ্রামের মাঠে গিয়ে তার সমবয়সী বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করত।

IMG_20210129_190444.jpg

একদিন বিকালে সে তার জমিতে কাজ করে, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সে তার মাকে বললঃ মা, প্রচুর ক্ষিধা লাগছে, খেতে দেও।
তার মা বললঃ খাবার ত এখনো রান্না হয় নি।
সে খাবার না পেয়ে, রাগারাগি করে ঘর থেকে তার বাবার একটি লোহার টর্চ-লাইট ছিল তা সঙ্গে করে নিয়ে বের হয়ে গেল। গ্রামে কাঁচা রাস্তা ধরে সে মনে দুঃখে হাটতে লাগল। সে এমনিতে প্রচুর ভীতু প্রকৃতির মানুষ। চারদিকে ঘন অন্ধকার ছিল এবং রাস্তা মাঝে কোনো মানুষ ছিল না। কিন্তু রাগের কারনে এসবের প্রতি তার কোনো খেয়ালই ছিল না।জোৎস্না রাতে কিছুক্ষণ হাতের টর্চ-লাইট জ্বালিয়ে রাখার পর, তা নিভিয়ে সে হাটতে লাগল। কিছুদূর হাটার পর হঠাৎ পিছে থেকে কে যে তার নাম ধরে তাকে ডাক দিল। সে পিছে তাকিয়ে জোৎস্নার আলোতে দেখল, বাঁশঝাড়ের পাশে তার বন্ধু তপন , তপন তাকে জিজ্ঞাস করলঃ এত রাতে তুই কই যাচ্ছিস?
সে বললঃআর বলিস না! ঘর থেকে রাগারাগী করে বের হয়ে আসছি।
তপন বললঃঅহ, আচ্ছা। সমস্যা নাই চল সামনের দিকে হাঁটতে থাকি। হাটতে হাটতে সব বলিস। তপন, হাসানের থেকে কিছুটা দূরুত্ব বজায় রেখে হাটতে লাগল। কারন হাসানের হাতে লোহার লাইট ছিল।

তপন, কথার মাঝে ভুলিয়ে হাসানকে বিলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু হাসানের এদিকে কোনো খবর নেই। সে তার মনের কথা বলতে বলতে বিলের মধ্য দিয়ে হেঁটে কখন যে নদীর ধারে চলে এলো তার কোনো খেয়ালই ছিল না। নদীর ধারে যাওয়ার পর তপন বললঃ তার হাতের লাইট টা একটু নিচে রাখ।

এ কথা শুনার পর সে কেন বলে হাতের লোহার টর্চ-লাইটটা অন করে পিছে তাকাতেই সে তার বন্ধু কে আর খুঁজে পেল না সে যেন নিমিষেই হাওয়ার সাথে মিশে গেল। সে অনেক ভয় পেল এবং ক্ষণিকের মধ্যে তার সামনে সব পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল যে এতক্ষণ সে যার সাথে কথা বলতে বলতে নদীর ধারে এসেছে সে তার বন্ধু তপন ছিল না।

হাসান বুঝতে পারল যে, এই লোহার টর্চ-লাইটি হাতে থাকার কারনে তপনের বেশধারী জ্বীনটি তার থেকে দূরে দূরে হাটতেছিল এবং তার কোনো ক্ষতি করতে পারে নি। নদীর ধারে গিয়ে যদি সে হাতের টর্চ-লাইটটি নিচে রাখত তাহলে তপনের বেশধারী জ্বীনটি তাকে নদীর পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলত।

সে নদীর ধার থেকে ভয়ে দোয়া-দূরুদ পড়তে পড়তে এক দৌড়ে বিলের কাদা-পানি ভেঙে তার বাড়িতে গিয়ে পৌছল। বাড়িতে গিয়ে দেখল, তার মা তার জন্য কান্না করতেছে। সে তার মাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরল এবং মার কাছে মাফ চেয়ে বলল যে সে বাড়ি থেকে রাগ করে আর কখনো বের হয়ে যাবে না। ছেলেকে পেয়ে তার মা খুবই খুশি হলো এবং তারা একসাথে রাতের খাবার খেলো।

Sort:  

Congratulations @riazud! You have completed the following achievement on the Hive blockchain and have been rewarded with new badge(s) :

You published more than 90 posts.
Your next target is to reach 100 posts.

You can view your badges on your board and compare yourself to others in the Ranking
If you no longer want to receive notifications, reply to this comment with the word STOP

Check out the last post from @hivebuzz:

Hive Tour Update - Governance
Support the HiveBuzz project. Vote for our proposal!

বেশ ভালো হয়েছে লিখাটি।
এইভাবে অভিমান করে ঘর ত্যাগ ভালো না, তপন পরেছে জ্বীনের খপ্পরে, আবার কেউ কেউ পরে পুলিশের খপ্পরে।😂

হুম😊