সুন্দরী মেয়েদের গল্পতো আমরা অনেক শুনি গল্প উপন্যাসে। আজকে দুনিয়ার চোখে অসুন্দর একটা মেয়ের গল্প বলবো।
সে ছিল আমার প্রাণের বান্ধবী। কলেজ থেকে ও ছিল আমার বেস্ট ফ্রেণ্ড। দুনিয়ার চোখে ও ছিলো কালো মোটা একটা মেয়ে। ক্লাসের ছেলেরা আড়ালে ওকে অসুন্দর ডাকতো। ক্লাসের কিছু মেয়েরা ওকে নিয়ে টিটকারী করতো।
ও যথেষ্ট শালীন পোশাক পড়ার পরও ওকে অনেক তির্যক কথা শুনাতো যদিও তাদের নিজেদেরই পোশাকের ঠিক ছিলনা। আমার বান্ধবী খুব কষ্ট পেতো। মানুষের খারাপ ব্যাবহারের জবাব দিতোনা কিন্তু গোপনে চোখের জল ফেলত।
ও খুব ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ও ছিলনা। মধ্যম মানের স্টুডেন্ট ছিলাম আমরা। পড়া শেষ করার পর ও কোনো জব পেলনা। IELTS দিয়ে বাইরে যাবার চেষ্টা করতে লাগলো। অস্ট্রেলিয়া তে গেলো পড়াশুনা করতে। ওখানে কাজ করতো আর পাশাপাশি পড়াশুনা করতো। কিন্তু ওখানেও ভালো করতে পারলনা। কোনরকমে একটা ডিগ্রী করে দেশে ফিরে আসলো।
দেশে এসে একটা ছোট চাকরী করতে লাগলো। ততদিন বেশ বয়সও হয়ে গেছে। বিয়ে ও হয়নি। ও খুব হতাশায় ভুগতে লাগলো। ওদের আর্থিক অবস্থাও ভালো ছিলনা। বাবা ছিল retired . মা গৃহিণী। ছোট একটা বোন ছিল ওর পড়ার খরচ আমার বান্ধবী চালাতো।
বয়স হয়ে যাচ্ছিল বিয়ের প্রস্তাব ও আসেনা।
একটা সময় মানুষ জন ও অনেক কথা বলতে শুরু করলো। এতো বয়স হয়ে যাচ্ছে বিয়ে হয়না কেনো... ইত্যাদি । ঢাকায় থাকা একসময় ওর জন্য খুব কঠিন হয়ে উঠতে লাগলো। ও আবার বাইরে যাবার জন্য চেষ্টা করতে লাগলো। অনেক চেষ্টার পর এবার হলো আমেরিকায়। ছোট একটা জব দিয়ে শুরু করলো।
ততদিনে ও দ্বীন ইসলাম চিনেছে। অনেক ধার্মিক। খুব করে আল্লাহকে ধরলো। আল্লাহ এবার ওর ডাকে সাড়া দিলেন। আলহামদুলিল্লাহ। ৪১ বছর বয়সে খুব ভালো একটা ছেলের সাথে ওর বিয়ে হলো। এত্ত ভালো একটা ছেলে পাওয়া যাবে আমরা কেউই ভাবিনি। বিয়ের এক বছর পর ওর একটা মেয়ে হলো। এখন ও আর জব করেনা। মেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে এখন ওর সুখের সংসার।
আল্লাহ চাইলে কি না হয়।" আর ধৈর্য্যধারণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।"