বাংলাদেশ কে ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ বলা হয়। কারন আমাদের দেশ ৬ ঋতুর দেশ যা অন্য কোন দেশে দেখা যায় না। এই ৬ ঋতুর মধ্যে ঋতুরাজ বলা হয় বসন্ত কে। শীতের কনকনে ঠান্ডা বাতাস কে দূর করে চলে আসে বসন্তের হাওয়া। আর বসন্তেই দেখা যায় নানা রঙের ফুলের ছড়াছড়ি। নানা পাখিদের কলরব। আমরা ছোট বেলা দাদা-দাদি, নানা-নানি দের কাছে শুনে আসছি মাঘ মাসের বাঘ কাপানো সেই শীতের বিদায় জানিয়ে বসন্তের আগমন ঘটে। আর এই বসন্ত শুরু হয় ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন থেকেই। আর আমাদের দেশের তরুণ তরুণী ফাল্গুনের এই প্রথম দিনেই মেতে উঠে বসন্ত বরণ উৎসবে।

Img
এইতো গতকালই ১৪ফেব্রুয়ারি বাংলা ঋতুরাজ বসন্তের বরণ করা হলো আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে। কবি বলেন 'ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত'। এই বসন্ত মানেই বাঙালি মানুষের প্রানে নতুন কলরব। শীতের শেষে সকল গাছপালার পুরোনো পাতাগুলো জড়ে পরে যায়। বসন্তে গাছে গাছে নতুন পাতা দেখা যায়। এই সাথে রঙিন ফুলের সুভাসে ছেয়ে যায় প্রকৃতি। ডালে ডালে কোকিলের কলরব। এমন প্রকৃতি যেনো নতুনের ছোয়া দেয় আমাদের মনে প্রানে। বসন্তের ছোয়ায় প্রকৃতি হয়ে উঠে অপরূপ সৌন্দর্য্যের বাহার। অন্যান্য ঋতুর থেকে বসন্ত যেনো আমাদের মাঝে নতুনের ছোয়া এনে দেয়। যেদিকেই দেখি শুধু সবুজের সমারোহ, নানা রঙিন ফুলের সুভাষ।
আবার দেখা যায় এই বসন্তের দিনেই ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করা হয়। এতে দেখা যায় আমাদের দেশের তরুণ তরুণী রা নতুন সাজে সজ্জিত করে নিজেদের। এই বসন্তের শুরুতে একই সাথে ভালোবাসা দিবস থাকায় দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, রমনা বটমূল, এ ছাড়াও প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ে উঠেছে উৎসব মুখরিত। বসন্ত বরণের উৎসব আমাদের ভার্সিটিতে হয়ে উঠেছিলো রঙিন। ড্যাফোডিলের বনমায়া তে ড্যাফোডিল প্রথম আলো বন্ধুসভা থেকে আয়োজন করা হয়েছিলো সারাদিন ব্যাপি অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে আমাদের ভার্সিটির সম্মানিত স্যার উপস্থিত ছিলেন সেই সাথে ভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের রঙিন সাজে সজ্জিত হয়ে উঠেছিলো আমাদের ড্যাফোডিল ক্যাম্পাস।
এই মাস আমাদের যে শুধু আনন্দের তা নয়। এই মাসেরই ৮ তারিখ (২১ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে) আমাদের দেশের বীর সন্তানরা আমাদের বাংলা ভাষা কে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে রাজপথে নামে। বীর সন্তানরা আমাদের এই মাতৃভাষার জন্যে তাদের প্রান বিসর্জন দেন। যার জন্যে বাংলা মাসের ৮তারিখ (২১ফেব্রুয়ারি) শোক দিবস হিসেবে পালন করে থাকি। তাই এই মাস আমাদের কাছে যেমন আনন্দের তেমন শোকেরও।
আমাদের দেশে ২০২০ সালের পূর্বেও বসন্তের শুরুটা পালিত হয়েছে ১৩ফেব্রুয়ারি। বর্তমানে নতুন সংশোধিত বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পহেলা ফাল্গুন পালিত হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। যার ফলে দেখা যায় আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবস এবং বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান একই সাথে পালন করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশের গ্রামের তুলনায় শহর অঞ্চলে বেশি উৎসব মুখর পরিবেশ দেখা যায়। গ্রাম অঞ্চলে খুব একটা উৎসব না দেখা গেলেও শহরে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অনেক বেশি আনন্দের ছোয়া দেখা যায়।