বন্ধুরা আজকে আমার লেখা অচেনা পথিক কবিতাটি শেয়ার করলাম।কবিতাটির মূল বিষয় হলো—এই পৃথিবী এক ক্ষণস্থায়ী পান্থশালা, আর মানুষ এখানে একেকজন পথিক। চলার পথে মানুষের সাথে মানুষের দেখা হয়, ভাবের আদান-প্রদান হয়। কিন্তু দিনশেষে সবাইকে এই মায়াজাল ছিন্ন করে চলে যেতে হয়। তাই অহংকার বা কূটচাল ছেড়ে মানবতা, সততা এবং সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমেই পরম স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। তাহলে চলুন মূল কবিতাটি বাংলা ভাষায় পড়া যাক--
অচেনা পথিক

রৌদ্রতপ্ত এক জ্যৈষ্ঠের বেলা
বৃক্ষ ছায়াতলে বসেছি একেলা।
যেতে হবে দূরগাঁও, হেমপুরে থাকি
অনেকটা পথ যে এখনো বাকি।
ক্ষণে ক্ষণে বহিছে মৃদু সমীরণ
ছায়াতলে যাক না কিছুটা লগন।
কেহ যদি আসে হেথা রয়েছি আশায়
দুটি কথা বলিতাম প্রাণের ভাষায়।
হেনকালে আঁখি মেলে দেখি অদূরে
অচেনা পথিক এক আসছে ধীরে।
কী ভেবে পথিক এসে বসল পাশে
কথা হলো দু'জনার গল্প আবেশে।
শুধাইতে ঠিকানা কহিল সে হেসে
এ জগতে বলো কে চিরদিন বাঁচে?
তুমি আমি রইব না পথের এদিক
গাহিবে সেদিন হেথা আগামীর পথিক।
বচনে পথিকের ভারী ব্যাকুলতা
কে জানে কাহার কী মর্মব্যথা?
জগৎ ও জীবনের কী-বা আমি জানি
অচেনা পথিক যদি শোনায় বাণী।
ভাবনার দ্বার খুলি পথিক তোমার
বলো তো শুনি যাহা পাথেয় চলার।
দীনহীন পথিক আমি নই জ্ঞানীজন
দুটি কথা তবুও রাখিবে স্মরণ।
স্রষ্টাতে বিশ্বাস সৃষ্টিতে প্রেম
ইহাতেই খুঁজিও মুক্তির ফ্রেম।
মানবতার গান যদি না গাহো
স্রষ্টার করুণা কেমনে চাহো?
কর্মসাধন করো জীবনের পথে
সততা ন্যায়বোধ রেখো না তফাতে।
কর্ম মাঝেই রেখো ধর্মের বাণী
স্রষ্টার স্মরণে দূর হবে গ্লানি।
পারিবে নাহি যদি পরহিত সাধন
কথা কাজে না হইও কাহারো বেদন।
অন্যের তরে যদি করো কূটচাল।
নিজেই সে ফল পাবে আজ কি-বা কাল।
নিখিলের এত রূপ এত সুধা মায়া
আলেয়ার আলোতে অলীক ছায়া।
বেলাশেষে ডাকিবে সেই মহাকাল
ছিন্ন হবে জেনো এই মায়াজাল।
কৃত পুণ্যেই কোরো না মুক্তির আশা
স্রষ্টার কৃপা বিনা পাবে না দিশা।
অন্তিম প্রহরে বলো কে কাহার?
স্রষ্টাই সকলের, তোমার আমার।
এমনি করে বেশ লগ্ন বহে
অনেক কথা হলো পথিক দোঁহে।
দাঁড়ায়ে শুধায় মোরে, 'কোথা যেন নীড়?'
কহিলাম, হেমপুরে আছে এক কুটির।
অচেনা পথিক কহে বিদায়ের কালে
হয়তো হবে না দেখা এই ধরাতলে।
যেথায় যেমন থাকো কর্মে কি ধ্যানে
গোপন প্রণয় রেখো স্রষ্টারই সনে।
Copyright: This is a self-written story by [Abbas Ali]. All rights reserved.
Posted Using INLEO