ভোরের আবহাওয়ায় এখন একটা চেনা চেনা গন্ধ। এইতো কিছুদিন আগেও সকালে ঘুম থেকে উঠলেও গরমের ধাপ থেকে বেরোতে পারতাম না কিন্তু হঠাৎ এখন যেন একটা মৃদু হিমেল স্পর্শ, যা মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির আরও একটা পরিবর্তনের গল্প। ঠিক তাই ঋতুর খাতা উল্টে আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে নতুন ঋতু যার নাম হেমন্তকাল। শরৎ চলে গেছে তার কাশবনের শুভ্রতা আর মেঘের ভেলা নিয়ে, আর হেমন্ত এসেছে এক শান্ত, স্নিগ্ধ আর উদাসীন রূপ নিয়ে। তবে কাশফুলের সৌন্দর্য এখনো নদীর তীর ঘেঁষে রয়ে গেছে।

হেমন্তের দিনগুলো আমার কাছে বড্ড অদ্ভুত লাগে আর এই অদ্ভুত লাগার বিভিন্ন কারণ আছে। প্রথমত বলা যায় যে, এই ঋতুর কোনো তাড়া নেই, কোনো অতিশয্য নেই। গ্রীষ্মের মতো তীব্র দাবদাহ নেই, আবার বর্ষার মতো অবিরাম বর্ষণও নেই। এটি যেন শীতের আগমনী বার্তা বয়ে আনা এক নীরব দূত। ভোরবেলা যখন ঘুম থেকে উঠি, তখন জানালার বাইরে তাকালে দেখা যায় হালকা কুয়াশার চাদর। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলো সকালের প্রথম রোদে মুক্তোর মতো চকচক করে ওঠে। এই দৃশ্যটা চোখের জন্য যে কতটা শান্তির, তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে ঋতু পরিবর্তনের এই সময় আমাদের কিছু শারীরিক পরিবর্তন কিংবা শারীরিক রোগ অনুভূত হয়। যেমন ঠান্ডা জ্বর এই সময় বেশি।
একদিকে আরাম অন্যদিকে কিছু অসুস্থতার আছেও বটে।কারণ সকালে ঠান্ডা আবার দুপুরের তীব্র রোদে গরম আবার রাতে ঠান্ডা।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা কেটে গিয়ে এক অদ্ভুত মিষ্টি রোদ চারদিক ছড়িয়ে পড়লেও আস্তে আস্তে রোদের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায় যা আমাদের শরীরের উপর প্রভাব পড়ে। তবে এই রোদের সোনালী আভা যখন ফসলের মাঠে পড়ে, তখন পুরো মাঠ যেন সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়। মাঠের পর মাঠ পেকে যাওয়া আমন ধান বাতাসে দুলতে থাকে, যা কৃষকের মুখে ফুটিয়ে তোলে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি। হেমন্তের দুপুরের রোদে কেমন যেন একটা আলসেমি জড়িয়ে থাকে। ক্লান্তিহীন এক নীরবতা যেন চারপাশকে গ্রাস করে নেয়। হেমন্তের এই আলসেমি যেন পিছন পিছন ঘুরে এবং আমি কিছুটা শরীরে অসুস্থ অনুভব করি।
আমার শরীর এখন খুব আলসেমি লাগতেছে মনে হয় বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ি কারণ আমার শরীরে হালকা জ্বর এবং শরীর ব্যথা অনুভব হচ্ছে। এই ঋতুর এটাই একটি খারাপ দিক তবে আবার বিকেলগুলো হেমন্তে বড্ড ছোট।দেখতে দেখতেই সূর্যটা পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে।গোধূলির আলো মুছে যেতে না যেতেই চারদিক কেমন যেন একটু জলদিই অন্ধকার হয়ে আসে। সন্ধ্যার পর থেকেই হালকা ঠান্ডার আমেজটা আরও স্পষ্ট হতে শুরু করে। গ্রামীণ জীবনে এই সময়টাতে শুরু হয় নবান্নের প্রস্তুতি। নতুন ধানের চালের পায়েস আর পিঠাপুলির সুবাসে ভরে ওঠে চারপাশ। তবে এখনো ধান কাটা শুরু হয়নি কিছুদিন পর ধান কাটা শুরু হবে এবং উৎসব শুরু হবে।
আমার কাছে হেমন্তকাল যেমন একদিকে শান্তি আবার অন্যদিকে আলসেমি কিংবা সামান্য অসুস্থতা। তবে গরমের ধাপ থেকে বাঁচতে এই ঋতু অনেক ভালো। প্রকৃতির এই রূপান্তর আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের প্রতিটি পরিবর্তনেরই একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে।সকালের কুয়াশায় ঢাকা ভোর আর সোনালী রোদে মাখ যেন এক মায়াবী ক্যানভাস সোনালী ধানগুলো যেন আরো সোনালী হয়ে উঠে। এই সময়টাতে আমার মনে হয় প্রকৃতি প্রতিদিন নতুন নতুন রঙের গল্প লেখে।
ধন্যবাদ সবাইকে!
ধন্যবাদান্তে আব্বাস আলী ( @writinglovers )
Posted Using INLEO
Congratulations @writinglovers! You have completed the following achievement on the Hive blockchain And have been rewarded with New badge(s)
Your next target is to reach 60 posts.
You can view your badges on your board and compare yourself to others in the Ranking
If you no longer want to receive notifications, reply to this comment with the word
STOP