আসালামুআলাইকুম,

ফুল নিয়ে মানুষ এর এক তীব্র আবেগ আর না জানা ভালোবাসা রয়েছে, নিজের পছন্দের মানুষকে ফুল এর সাথে আমরা তুলনা করি, এটা যেন অভ্যাস হয়ে গেছে। ফুল ভালবাসেনা এমন মানুষ পৃথিবীতে কমই আছে।তাইতো ফুল নিয়ে হাজারো কবিতা লেখা হয়েছে।
ফুলের প্রতি মানুষের অজানা এক ভালোবাসা যেন,মনের মধ্যে থাকে।

আমি ছোটবেলা থেকেই ফুল খুব পছন্দ করি।অনেক শখ ছিল একটি বাগান করার।ছোটবেলায় বিভিন্ন বনফুলের গাছ লাগাতাম। তখন অবশ্য আমি ফুল গাছ চিনতাম না, তাই কোথাও গেলে যখন দেখতাম কোন গাছে ফুল ধরেছে, ঐ গাছটি তুলে নিয়ে এসে বাড়িতে লাগাতাম।ফুল গাছের প্রতি আর ফুলের প্রতি আকৃষ্ট বেরে যায় আমার মধ্যে, তখন সারাদিন গাছ আর ফুল নিয়ে ব্যাস্ত থাকতাম,সেই জন্য মায়ের অনেক বকুনি শুন হয়েছে আমার।

কারণ পড়ালেখা বাদ দিয়ে আমি ফুলগাছ নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম।আর আপনারাই বলেন না?
কোন মানুষটা ফুল পছন্দ করেনা, প্রতিটা মানুষই ফুল কে পছন্দ করে।
আমার বিয়ে হওয়ার পর, আমার শ্বশুরবাড়িতে ফুলের টবে ফুল গাছ বাগানের মত সাজিয়ে রাখতাম। কিন্তু এখন আমি একটা ছোটখাটো বাগান করেছি, প্রতিদিন বিকেলে পানি দেই ফুল গাছ গুলোতে,আমি গাছগুলো প্রতি খুব যত্ন নিয়ে থাকি।
সারাদিন সংসারের কাজ করে,যে সময়টুকু আমার হাতে থাকে,এই সময়টুকু দিয়ে আমি বাগানের পরিচর্যা করি। আর সময় না থাকলেও কাজ করতে মন চাইবে, বাগানে এত অসাধারণ সুন্দর বাহারি রঙের ফুল ফুটেছে, আর ফুলের ঘ্রানে, ফুলের সৌন্দর্যে যার মন চাইবে না। বাগান পরিচর্যা করতে তারও পরিচর্যা করতে মন চাইবে।
আমি আমার ছোটখাটো অসাধারণ সুন্দর বাগানটি, আমার ঘরের দরজার সামনে করেছি।রাতে ফুলের ঘ্রাণে ঘরের ভিতরে একটা অসাধারণ সুগন্ধ হয়ে যায় । ফুলের ঘ্রানে পুরো বাড়ি ঘ্রাণ হয়ে যায় খুব ভালো লাগে তখন।
তবে আমি কিছু ঘ্রাণ ছাড়া ফুল গাছ লাগিয়েছি,যেমন রক্ত জবা, নয়ন তারা,এফুল গুলো কোন ঘ্রাণ নেয় কিন্তু এদের সৌন্দর্য অসাধারণ দেখে নয়ন লেগে থাকে। নয়নতারা ফুলের দুটি রং হয়ে থাকে, একটি হচ্ছে গোলাপি রং আরিকটি হচ্ছে সাদা। তবে আমি গোলাপি রঙের গাছটি লাগিয়েছি আমার বাগানে ।
আমি যখন বাগানের পরিচর্যা করি,তখন আমার ছোটবেলার একটা স্মৃতি মনে পড়ে যায়। আর এই স্মৃতি মনে হলে অনেক হাসি পায়।
আমি আগেই বলেছি আমি ফুল খুব পছন্দ করি।ছোটবেলায় আমি কোথাও গেলে দেখতাম ফুল গাছ লাগানো আছে কি না।ওই ফুলগুলো চুরি করতে অনেক চেষ্টা করতাম। অনেক সময় চুরি করতে পারতাম,অনেক সময় মায়ের বকুনি শুনে মায়ের সাথে চলে আসতে হতো।
একদিন বিকেলে বাবার এক পরিচিত কলিকের বাসায় বেড়াতে গেলাম।ওনার বাসার সামনে অনেক বড় একটা ফুলের বাগান আছে। ফুলের বাগান দেখে অনেক খুশি হয়েছি, কিছুক্ষণ পরপর আমার মাকে বলি মা এদের বাড়িতে অনেক বড় একটা ফুলের বাগান আছে। আমার কাছে খুব ভালো লাগছে।
আর আমার মা তো জানে আমি ফুল খুব পছন্দ করি। আমার মা আমাকে বলে আমরা বেড়াতে এসেছি,এখান থেকে ফুলটুল ছিড়বি না মানুষ খারাপ বলবে। তখন আমি বলি আচ্ছা ঠিক আছে মা আমি ফুল ছিড়বনা। কিন্তু কে কার কথা শোনে।বিকেলে নাস্তা করার পরে যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো তখন দেখি মা এবং আমার বাবার কলিকের স্ত্রী ( মানে আন্টি )একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছে।
তখন এই সুযোগে গেছি ফুল চুরি করার জন্য, ঢুকলাম বাগানে ঢোকার সময় খেয়াল করেছি কাঁটাতারের বেড়া, ওই কাঁটাতারের বেড়া টপকে গেলাম ফুল চুরি করতে। দুইটা ফুল ছিঁড়ার পরে কে যেন হঠাৎ ডাক দিল কে রে? ফুল ছিঁড়ছে। তখন খেয়াল করিনি কে ডাক দিয়েছে, তখন কিভাবে ফুলের বাগান থেকে পালিয়ে বের হব, সেই চিন্তা করতে লাগলাম।ছুটতে ছুটতে বাগানে কাঁটাতারের বেড়া যে ছিল সে খেয়াল টা আমার মাথায় ছিলনা। দৌড়িয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া পার হতে পারেনি কাপড় আটকে গেল, কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে আমার হাত ছেড়ে গিয়েছিল। এখনো হাতে দাগ রয়ে গেছে। আর আমি কোনরকমে কাঁটাতারের বেড়া থেকে বের হতে পারছিলাম না।
তখন কান্না শুরু করলাম, আমার কান্না শুনে আমার মা এবং আন্টি বের হয়ে এসে দেখে, আমি কাঁটাতারের বেড়ার ভিতরে আটকে আছি। তখন আমার মা কাঁটাতারের বেড়া থেকে কোনরকমে আমাকে বের করে, এরপর শুরু করলো বকনি তারপরে মায়ের হাতে মার খেয়েছি। এখনো মনে হলে খুব হাসি পায়।একটা ফুলও চুরি করতে পারলাম না। আরো নিজে ব্যথা পেয়ে আসলাম মায়ের হাতে মারও খেয়েছি ।
আমার ফুলের প্রতি ভালোবাসা থাকার কারণেই, আজকে আমি আমার মনের ইচ্ছাটা পূরণ করেছি। আমার বাগানের কিছু ফুলের ছবি। আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম





ধন্যবাদ, ঈদ মোবারক।