আসসালামু আলাইকুম,

https://www.ppbd.news/education/175764/
প্রতিটা ছাত্র-ছাত্রীর মনে গেঁথে থাকে কোন একজন শিক্ষকের কথা।সেই শিক্ষকের নীতিকথা বৃদ্ধ অবস্থায় ও মনে পড়ে, শিক্ষকের নীতি কথা তার দিক-নির্দেশনার কথা গুলো যেন মনের ভিতরে গেঁথে থাকে সারাটা জীবন । তার সাথে ফেলে আসা স্মৃতি গুলো মনে পরে বারবার । শিক্ষাজীবনে তাদের সংখ্যা ছিল অনেক, তবুও তাদের শিক্ষার আলোর মিছিল থেকে একজনকে আমি প্রিয় বলে পৃথক করতে পারেছি।আমার প্রিয় শিক্ষকের নীতি নির্দেশনা ও আদর্শ এখনো আমার জীবন চলে। এখনো তার কথা মেনে চলতে চাই।
আমার স্কুল জীবনে অনেক শিক্ষক এসেছে, তবে আমার প্রিয় শিক্ষকের কথা এখনো বারবার মনে করি।আমার প্রিয় শিক্ষকের নাম কালাম স্যার। কালাম স্যারের সাথে আমার প্রথম দেখা হয় ক্লাস তৃতীয় শ্রেণীতে যখন পড়ালেখা করি। উনি তৃতীয় শ্রেণীতে বাংলা ক্লাস নিতেন।গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম দিন আমাদের বাংলা ক্লাস নিয়েছিলেন।এখনো মনে পড়ে সেদিনের কথা গুলো।
আমার পড়ালেখা তেমন গ্রামের স্কুলে হয়নি,কারণ বাবার চাকরির সুবাতে বিভিন্ন জেলায় জেলায় থাকতেন। তাই এক বছরের বেশি কোন স্কুলে পড়ালেখা করতে পারতাম না।তাই ওই স্কুলগুলোর শিক্ষকের সাথে আমার তেমন ভালো সম্পর্ক আর তেমন সময় পাইনি।তবে গ্রামে তিন বছরের জন্য আমার বাবা আমাদের পাঠিয়ে দেয়, সেই সময় গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হই।
তখন থেকে কালাম স্যারের সাথে আমার পরিচয় হয়।খুবই দায়িত্বশীল একজন শিক্ষক ছিলেন, এছাড়াও তিনি তার ছাত্র-ছাত্রীদের খেয়াল রাখতেন । তাদেরকে বিভিন্ন রকমের দিক নির্দেশনা দিতেন,জীবনে চলার পথে কিভাবে চলতে হবে,কিভাবে কথা বলতে হবে নিজের জীবনকে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
আমার প্রিয় শিক্ষকের কথা মনোযোগ সহকারে সব সময় আমি শুনতাম। আমার প্রিয় শিক্ষকের কথা বলার বাপ- ভঙ্গি আমার খুবই ভাল লাগত এবং তার শিক্ষাগতা খুবই ভালো লাগেতো। কালাম স্যার যখন ক্লাসে ঢুকতেন প্রথমে আমার নাম ধরে ডাকতেন কিন্তু সাথে মা নামটা জরিয়ে ডাকতেন।তখন বলত পড়া শিখেছ? স্যারকে আমি খুব ভালোবাসতাম, তাই সব সময় স্যারের পড়াগুলো শিখে আসতাম, যেন কখনো স্যার মনে কষ্ট না পায়।
কালাম স্যার সবসময়ই আমাকে মেয়ে বলতেন, আমি নাকি স্যারের মেয়ে। ইস্কুলের সব স্যারদের বলতেন আমার মেয়েকে তোমরা খেয়াল রেখো কিন্তু। স্যার প্রতিদিন স্কুলে আসতেন, যদি কখনো কোনো কারনে স্যার স্কুলে না আসতেন, তখন আমি অস্থির হয়ে যেতাম কারণ আমি স্যারকে খুব পছন্দ করতাম।কখনো ইস্কুলে যেতে মন না চাইলে আমার স্যারের জন্য স্কুলে চলে যেতাম।
যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠেছি, আমি প্রাইমারি স্কুল থেকে বের হয়ে হাই স্কুলে ভর্তি হবো,তখন আমার প্রিয় স্যার আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করেছিল আমিও আমার স্যারের জন্য প্রচুর কান্না করেছি। তবে গ্রামের কোন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি, কারণ ষষ্ঠ শ্রেণীতে ওঠার পর আমি আবার আমার বাবা-মায়ের সাথে চট্টগ্রামে এসে পড়ি।
সেই খানে ষষ্ঠ শ্রেণি ভর্তি হই,সেই স্কুলে অনেক শিক্ষক ছিল। সব শিক্ষকই তার ছাত্রছাত্রীকে ভালোবাসে, সব শিক্ষকের ভালোবাসার মাঝে আমি কালাম স্যারের ভালোবাসা খুঁজতাম বেড়াতাম প্রতিটা মুহূর্তে। কিছু ভালো লাগতোনা স্যারে জন্য সব সময় মন খারাপ লাগতো। শুনেছি আমার সহপাঠীদের থেকে স্যার আমার খোঁজখবর নিত।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর যখন গ্রামে আমি যায় তখন স্যারের খবর নেয় সহপাঠীদের থেকে,তখন ওরা বলে স্যার কেমন আছে জানিনা এখন স্কুল পড়ায় না। আমার একটাই দুঃখ থাকবে স্যারের সাথে আমার দেখা হয়নি, অনেক চেষ্টা করেছিলাম স্যারের সাথে দেখা করতে, কিন্তু দুঃখের বিষয় স্যারের বাড়ি আমি চিনিনা।
স্যার হয়তো পৃথিবীতে নেই,স্যারের কিছু কথা এখনো মনে হয় স্যার সব সময় বলতো। বাবা মা তোমাদের একবার জন্ম দিয়েছে, একজন শিক্ষক প্রতিদিন তোমাদের জন্ম দেয়। আমি কালাম স্যারের কথা এখনো মনে করি, প্রতিটা শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষার বিনিময় পৃথিবীতে নতুন করে জন্ম।
আমার মত অনেকের জীবনে প্রিয় একজন শিক্ষক আছে সেই প্রিয় শিক্ষকের কথা মনে করে করে এখনো ভালো লাগে,তাই না?
ধন্যবাদ,এতক্ষণ ধৈর্য ধরে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য