ঘোরাফেরা করলে মন চাঙ্গা থাকে ।গতকাল মন চাঙ্গা করতে এক ঝাঁক ভবিষ্যত ম্যানেজার গিয়েছিলো মহাস্থানগড় !
ট্যুর বা পিকনিক যেটাই বলিনা কেন মজা হয়েছে একবারে গরম গরম ! পুরোদিনের গরম বাতাসে ছোট খাটো পাহাড় রূপের টিল্লা দিয়ে ঘুড়তে ভালোই লেগেছে।

বাস ভাড়া করা হয়েছিলো , সকালে নাস্তা ,দুপুরের খাবার আর বিকেলের হালকা নাস্তা সব কিছুর ব্যবস্থা ছিল ।চাঁদা তোলা হয়েছিলো আগে থেকেই ।

সকাল সাতটায় আমাদের বাস ছাড়ার কথা ।ছেড়েছিলো সাতটা পনেরোতে ।পিকনিকে একটু দেরীতো হবেই !

সকাল সকাল বাস চলছিল আর বাহিরের বাতাস মনকে ঠান্ডা করে দিচ্ছিলো ।বাসে ছিলো সাউন্ড স্পিকার যাতে করে গান ছেড়ে বাসের মধ্যেই নাচানাচি হচ্ছিলো ।চলন্ত বাসে গান সঙ্গে বন্ধুমহলের সবাই মিলে নাচ ।বেশ লাগছিলো ।

গাড়ি ছাড়ার এক ঘন্টা পর দেওয়া হয়েছিল নাস্তা খাওয়ার বিরতি ।ডিম ভাজা আর ভুনা খিচুড়ি ছিলো সকালের নাস্তাতে।খেতে ছিলো সুস্বাদু ।
এর পর আবারও আমাদের বাস চললো তার পথে ।গান-নাচ তখনও চলছিলো ।

আমরা বাস থেকে নেমে গেলাম মহাস্থান ঘর মাজারে ।সিঁড়ি বেয়ে বেশ খানিকটা উপরেই মাজার ।আমরা গিয়ে একটু হাত মুখ ধুয়ে নিলাম ।এর পর আমাদের উদ্দেশ্য মানকালীর কুন্ড দর্শন ।

মহাস্থান ঘর মাজারের পাশে অনেক দোকান রয়েছে ।হরেক রকম জিনিস দিয়ে সাজানো এই দোকানগুলো দেখতে ভালোই লাগছিলো ।

এর পর হাটতে হাটতে আমরা গেলাম মানকালীর কুন্ড দর্শনে।মানকালীর কুন্ডর আগে একটা পাথর আছে , কিছু মানুষ বিশ্বাস করে এ পাথর নাকি দুধ খায় ।এ পাথরে এসে সবাই দুধ ঢেলে যায় ।

এর পর গেলাম মানকালীর কুন্ড দেখতে ।পাশেই সাইনবোর্ডে লেখা এর ইতিহাস । দূর থেকে ইট বোঝাই করা জায়গাটার আছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ।

একটু সামনে হেটে গেলেই পাওয়া যায় জিয়ৎ কুন্ড ।অনেকে বিশ্বাস করে এ কুন্ড একটা কূপ যার এক সময়ে জীবন দান করার অলৌকিক ক্ষমতা ছিলো ।

এর সামনে দিয়ে হেটে একটু এগিয়ে গেলেই পাওয়া যায় পরশুরাম প্রাসাদ ।এই প্রাসাদের উপরই মোঘল ও ব্রিটিশ আমলের ইমারত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ।

পরশুরাম প্রাসাদের এক প্রাচীরের উপর দাঁড়িয়েই আমাদের মাঝের এক ঝাক তরুণ ব্যাচের ব্যানার নিয়ে ছবি তুলছিলো ।

আমরা পরশুরাম প্রাসাদ থেকে হেটে যাচ্ছিলাম মহাস্থান ঘর পার্কিং লটে ।ঐখানে আমরা আমাদের দুপুরের খাবার খাবো এটাই ছিলো লক্ষ্য ।যেতে যেতে এক বট গাছ দেখে এক দল আবার ছবি তুলতে দাঁড়িয়ে গেলো !

হেটে হেটে ক্লান্তি আর ক্ষুদা উভয়ই লেগেছিলো ! দুপুরের খাবার হাতে নিয়ে স্বস্তি পাচ্ছিলাম !

একজায়গায় বসলাম , আরাম করে খাবার খেলাম ।

এর পর গেলাম মহাস্থান ঘরে ।বেশ ফাঁকা আর বড় একটা জায়গা ।ভিতরে গিয়ে আমরা মেয়েরা বালিশ খেলা খেললাম আর ছেলেরা খেললো মোরগ লড়াই ।

ক্লান্ত হয়ে আমাদের একজন মাটিতেই শুয়ে পরেছিলো!

এর পর আমরা গিয়েছিলাম মহাস্থান ঘর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে ।জাদুঘরের ভিতরে ছবি তোলা নিষেধ বিধায় ছবি তোলা হয়নি তবে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে পেলাম।

এর পর আমরা গেলাম বেহুলার বাসর ঘর ভ্রমণে ।আমাদের এ ভ্রমণের ঐতিহাসিক জায়গাগুলোর মধ্যে এটাই ছিলো আমাদের শেষ ভ্রমণ জায়গা ।

বাসর ঘরে আমরা সবাই মিলে ছবি তুললাম !

ফিরে আসার সময় আমরা খেলাম বগুড়ার বিখ্যাত দই। দইর দেশে এসে দই না খেলে হয় নাকি !

দই বানানো দেখলাম এর পর আমরা কয়েকজন মিলে একটা করে দইর টোকা কিনে ভাগাভাগি খেলাম ।

এর পর আমরা বাসে উঠলাম , বাস ছাড়ার আগে কয়েকজন মিলে বিকেলের নাস্তা প্যাকেট করছিলো ।
বাস ছেড়ে দিলো আমরা আমাদের অস্থায়ী ঠিকানা অর্থাৎ হোস্টেল আর হলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম ।এ ছিলো আমার ব্যাচ ট্যুর আর বগুড়া ভ্রমণের সারসংক্ষেপ।
আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি , লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ , নিরাপদ থাকবেন , আশা করছি ভালো থাকবেন৷