ছাত্র জীবনে যেই সময়টা বাসার বাহিরে থাকা লাগে , ওই সময়টা সবারই কম বেশী একটা সমস্যা হয় আর তা হলো খাবার নিয়ে সমস্যা ! বাসার মতন খাবার বাহিরে পাওয়া যাবেনা এইটাই স্বাভাবিক , আবার হোস্টেল বা মেসের খাবার মজা হয়না তাও সবার জানা ৷ তাই নিজের পছন্দের খাবার খুজে নিতে সবারই একটু কষ্ট হয় ৷
রাজশাহী তে হোস্টেল জীবন হলো আমার জীবনের প্রথম হোস্টেল , প্রথমবার বাসা থেকে দূরে থাকা ৷ আমার হোস্টেলের খাবার খারাপ না তবে আমার খাওয়ার সুযোগ যখন হতো তখন খাবার ঠান্ডা হয়ে যেত ৷ ঠান্ডা খাবার খেয়ে আমি অভ্যস্ত না তাই দুপুরের খাবার ক্যাম্পাসের টঙের দোকান গুলোতেই খেতাম ৷
ক্যাম্পাসে দুপুরের খাবার খাবো , এইটা মনে পরলেই মাথায় আসতো বাবু ভাইর দোকান ৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়র চারুকলা অনুষদের পাশেই বাবু ভাইর দোকান ৷ সবাই চিনে ৷ খাবার মান আর তাদের ব্যবহার উভয়ই এই দোকানের জনপ্রিয়তার কারণ ৷
বাবু ভাইর দোকান পুরোটাই তারা নিজের পরিবারের লোকজন নিয়ে সামলায় ৷ বাবু ভাইর বয়স প্রায় ষাট বছরের কাছাকাছি হবে ! যেহেতু আমাদের বহু ব্যাচ আগের থেকে তাকে ভাই বলে সম্মোধন করে আসছে তাই আমরাও ভাই বলি !! বাবু ভাইর দোকানে কোনও মানুষ খাওয়ার জন্য গেলে তাকে গ্রাহক নয় বরং মেহমান বলা হয় ৷ বাবু ভাইর স্ত্রী ক্যাশ
সামলায় , তার পুত্রবধূরা আর কন্যারা রান্না সামলায় আর বাবু ভাই আর তার ছেলেরা খাবার পরিবেশন করে ৷ সত্যিই যেনো পুরো পরিবার মিলে মেহমানের তদারকি করে !!

এক প্লেট ভাতের সাথে তারা আলু ভর্তা , একটু ভাজি আর মরিচ ভর্তা দেয় ৷ এর জন্য আলাদা টাকা দিতে হয়না ! এক প্লেট ভাত দশ টাকা আর তার সাথেই ভর্তা আর ভাজি ৷ মেহমানদারীতে কমতি রাখেনা ! চাইলে ভাজি আরও পাওয়া যায় !!

বাবু ভাইর দোকানের মরিচ ভর্তা হলো আমার পছন্দের ৷ ঝাল তবে মজাদার ! মরিচ ভর্তাটা একটু আলাদা , সরিষার তেল সঙ্গে পেঁয়াজ ভাজা দিয়ে বানানো এই শুকনা মরিচের ভর্তা দিয়ে নিমিষেই এক প্লেট ভাত খাওয়া যায় !!
ভাইর দোকানের মুরগি রান্না তো আমার প্রাত্যহিক খাবার ৷ মুরগীর ছোট টুকরা ত্রিশ টাকা , বড় টুকরা পঞ্চাশ ৷ ছোট টুকরো দিয়েই একজনের খাওয়া হয়ে যায় , আমি ছোট টুকরোই খেতাম সব সময় ৷
তাছাড়াও মাছ ভাজা , মাছ ভুনা পাওয়া যায় ৷ ভাজা মাছ বিষ টাকা, ভুনা মাছ পঁচিশ টাকা ৷ ভাজা মাছ এর সাথে একটা ঝোল দেয় আলাদা যা খেতে অমৃত
লাগে ৷
ঝাল খোর আমার পছন্দের খাবার হলো বাবু ভাইর দোকানের খাবার ৷ শুধু আমার না
অবশ্য , যারা একবার এই দোকানে খায় তারা বাড়ে বাড়ে খেতে চায় ৷ দুপুরের সময় লাইন পরে যায় খাওয়ার জন্য , জায়গা খালি থাকেনা , অনেকে বাহিরে রাস্তার পাশে বসেও খায় !
খাবার স্বাদ , মান , তাদের ব্যবহার , পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সব কিছু মিলিয়েই আমার পছন্দের এক খাবারের দোকান বাবু ভাইর দোকান ! পকেটে পঞ্চাশ টাকা হলে পেট পুরে খাওয়া যায় এখানে ! এক কথায় বললে দামে কম , মানে ভালো ৷
আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি , আমার আজকের লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ , আশা করছি ভালো থাকবেন ৷