এদিকে এমুহুর্তে তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনতলায় অফিস রুম থেকে জানলা দিয়ে বাইরের রাস্তায় তাকিয়ে আছি। এপ্রিলের এই রাস্তার পিচ গলে যাওয়া দুপুরের গরমে সাধারনত বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হয় না। তার উপর আবার মজান মাস, সাথে করোনা ভীতি তো আছেই। ফলে সামনের বিশাল রাস্তাটা একেবারেই ফাঁকা পড়ে আছে। মাঝে মাঝে দুই একটা রিকশা চলতে দেখা যাচ্ছে।
টিভি নিউজে ইন্ডিয়ার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট হচ্ছিল এতক্ষণ। এমুহুর্তে পুরো পৃথিবীতে এটা হট নিউজ। বর্তমান ইন্ডিয়ায় করোনা পরিস্থিতি এতই খারাপ যে পুরো স্বাস্থ্য খাত একেবারে তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে গিয়েছে। শেষ ৭২ ঘন্টায় মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে সাত হাজার। আর আক্রান্তের সংখ্যা তো দশ লাখেরও বেশি।

হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন এর সংকট তো আরো আগেই দেখা দিয়েছে। চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালের সামনে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষমান। কিন্তু কখন চিকিৎসা ভাবে, তা কেউ জানে না। শ্মশানগুলোতে আগুন যেন নিভছেই না আর। ২৪ ঘন্টা শবদাহ করেও যেন কোনো ভাবেই সামলাতে পারছে না তারা। বাধ্য হয়ে গণশবদাহ করতে হচ্ছে এখন।
ফেসবুকে #IndiaNeedsOxygen এ ক্লিক করলেই হাজার হাজার ছবি/ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে। যা শিউরে উঠার মতো। বিশেষজ্ঞদের মতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।
ইতিমধ্যেই অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভারতকে সহায়তা করা শুরু করে। কিন্তু ভারতীয় জনসংখ্যার তুলনায় তা একেবারেই নগন্য। তবুও একটা প্রবাদ আছে না, মাঝনদীতে কেউ ডুবে যাবার সময় খড়কুটো ধরেও আকড়ে বেঁচে থাকতে চায়। ভারতের বর্তমান অবস্থাও এমন।
এদিকে আগামী ১৪ দিনের জন্য ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী সকল রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জরুরী পন্যবাহী জানবাহন ছাড়া বাকি সবকিছুর জন্য এই আদেশ কার্যকর হবে।
আমাদের দেশের কী অবস্থা হবে আমরা এখনো জানি না। গার্মেন্টসগুলো প্রথম থেকেই খোলা আছে। আর আজ থেকে শপিং মলগুলোও খুলে গিয়েছে। আমি বর্তমানে যে অফিসে আছি, সেখানের ৩ জনের করোনা পজিটিভ। এরপর থেকে অফিসের অবস্থা থমথমে। কম বেশি প্রত্যেকেই ভয়ে আছে। এক অফিসে থেকেও সবাই বর্তমানে পরষ্পরের সাথে যথেষ্ঠ দূরত্ব বজায় রেখে যোগাযোগ করছি।
আমরা কেউ চাই না প্রতিবেশী ভারতের মতো আমাদের দেশের অবস্থা হোক। এখনো সময় আছে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিতে হবে। আজ থেকে শপিং মল খুলে দিয়েছে সত্য। তবে আমি আপনি চাইলে শপিং মলের মতো জনবহুল স্থানে না যেতেই পারি। আমাদের যেতে কেউ বাধ্য করছে না।
ইদের শপিং এর চেয়েও আমাদের জীবনের মূল্য বেশি। আমাদের আশেপাশের মানুষদের জীবনের মূল্য বেশি। সাময়িক সুখের জন্য আমরা যেন মানুষের মুখের কষ্টের কারণ হয়ে না দাঁড়াই। বিষয়টা সবার মনে রাখা উচিত।
যায় হোক, আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন। আজ সকাল থেকে মনের ভেতর কেমন যেন ভয় কাজ করছে। বিশেষ করে অফিসের ৩ জনের করোনা আক্রান্তের খবর শুনে ভয়ের মাত্রা কিছুটা হলেও বেড়ে গিয়েছে। গতকাল করোনা টেস্ট করানোর জন্য আমাদের স্যাম্পল আবারও নিয়ে গিয়েছে। খুব সম্ভবত আগামীকাল রেজাল্ট পাওয়া যাবে। যদি নেগেটিভ হয়, তাহলে একেবারে বাড়ি চলে যাবো।

Very tuff time for whole world
yes. :(
Hi @reza-shamim, your post has been upvoted by @bdcommunity courtesy of @rem-steem!
Support us by voting as a Hive Witness and/or by delegating HIVE POWER.
JOIN US ON
In sha Allah the world will cure soon