
গ্রীষ্ম মানে সূর্যের প্রচন্ড তাপদাহ। আর সেই গ্রীষ্মকালের গরমেই সবাই যেন ছট ফট করতে থাকে। গ্রীষ্মের দুপুরেই যখন বাড়িতে থাকি তখন সবাই মিলে একসাথে বাড়ির পুকুরে ডুবোডুবিতে কতই না মজা করি । আমি যদিও সাঁতার পারিনা কিন্তু আমাদের পুকুরটা এত গভীর না তাই একদম মাঝখানে না গেলে পানিতে ডুবার কোনো চান্স থাকেনা। গত বছর আমি ভেবেছিলাম সাঁতার শিখেই ঢাকায় আসবো কিন্তু কোনো এক কারণে আমাদের ঢাকায় চলে আসতে হয়। আমি মোটামোটি তখন সাঁতার শিখে ফেলেছিলাম আর যদি ৪-৫ দিন শিখতাম তাহলে সম্পূর্ণ সাঁতার কাটতে পারতাম।
প্রথম যখন সাঁতার শিখতে যাই তখন আমরা সবাই মিলে একটা কলা গাছ দিয়ে ভেলা বানাই। কিন্তু সেই ভেলা আমার ভর রাখতে পারেনি। যদিও আমি অনেক শুকনা কিন্তু তবুও কেন জানি সেই ভেলা আমার ভর রাখতে পারেনি। হয়তোবা ভেলা বানানোই হয়নি। তারপর সেই ভেলাটি আমার বন্ধুরা এসে ভেঙে ফেলে। ভেবেছিলাম আরো একটা বানাবো কিন্তু কলা গাছ না থাকায় আর ভেলা বানানো হয়নি।
চৈত্রের গরমে আসল গ্রীষ্মের পরিচয় পাওয়া যায়। সেই চৈত্র মাসেই সব থেকে বেশি গরম পরে। চারিদিকে সবাই ক্লান্ত কাজ কর্মের জন্য কোনো আমেজই থাকেনা। সবাই যেন ক্লান্ত। সেই সূর্যের তীব্র রোদে গাছপালা যেন নেতিয়ে পরে। আর পুকুরের মাঝে সব কাকের ছুটো ছুটি। প্রকৃতি যেন নিস্তব্দ। আর সেই সময়ই নেমে আসে মুসল ধারে বৃষ্টি। তখন প্রকৃতি যেন তার আরেকটা নতুন জীবন ফিরে পায়।
গ্রামে বাড়িতে গেলে সেই গ্রীষ্মের বৃষ্টিতে ভিজতে অনেক মজা লাগে। সবাই মিলে আমরা একসাথে বৃষ্টিতে ভেজার জন্য বেরিয়ে পড়ি। বৃষ্টিতো সামান্য বৃষ্টি না , প্রচন্ড বৃষ্টির মাঝে আমরা সবই বেরিয়ে পড়ি ফুটবল নিয়ে। সেই সময়টযা যেন মনে হয় বন্ধু ছাড়া জীবনটা অর্থহীন। তাদের ছাড়া জীবনে কোনো আনন্দ নেই। যখন বৃষ্টি শেষ হতো তখন পুকুরে গিয়ে সবাই একসাথে গুসল করে বাড়িতে ফিরতাম।
আমার কাছে গ্রীষ্মকালে শহর থেকে বাড়িতে অনেক ভালো লাগে। যদিও শহর থেকে বাড়িতে দিনের বেলা অনেক গরম থাকে। কিন্তু রাতের বেলা তার অর্ধেক থাকে না , আর অন্যদিকে শহরে রাতের বেলা গরমের তীব্রতায় ঘুমানোই যায়না। তাই দিনের বেলা একটু কষ্ট হইলো রাতের বেলা ঘুমানোর সময় আর কষ্ট করা লাগেনা। এছাড়াও বাড়িতে যত মজা হয় শহরে তো বলতে গেলে কিছুই হয়না।
আমার কাছে গরমের দিন একদম ভালো লাগেনা। যদিও অনেকেই বলে শীতকালের থেকে গ্রীষ্মকাল আমাদের জীবনের জন্য ভালো। কিন্তু তবুও শহরের জীবনে এই ভাবে থাকতে থাকতে আমার কাছে এখন শীত কালই ভালো লাগে। একমাত্র গ্রামের মানুষেরাই গ্রীষ্মকালের মজা নিতে পারবে। যেটা আমি গত বছের বাড়িতে গিয়ে নিয়েছিলাম। সেই দিন গুলো কখনো ভুলতে পারবোনা।
এখন যখন ঢাকায় বসে বসে গরমে ক্লান্ত হয়ে যাই তখন আফসোস হয় যদি বাড়িতে থাকতাম এখন সবাই মিলে এখন পুকুরের মাঝে ডুবাডুবি করতাম। আর মসজিদের পাশে বসে সবাই মিলে একসাথে প্রকৃতির বাতাসের মজা নিতাম। গ্রামে যদিও দিনের বেলা অনেক গরম থাকে তার সাথে সাথে আবার প্রকতির ঠান্ডা বাতাসেরও অভাব পরে না।
