নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তার কিছু অনুভুতি

in BDCommunity5 years ago (edited)

3.JPG

নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তার কিছু অনুভুতি

ছোট বেলা থেকেই আমার অনেক শখ নৌকায় উঠবো। কিন্তু আমাদের এমন কোনো আত্মীয় ছিলোনা যাদের বাড়িতে যেতে হলে নৌকা দিয়ে যদি পার হতে হয়। ঘুরার ইচ্ছা থাকলে আত্মীয় লাগেনা , আমার আম্মু অনেক ভয় পায় নদীকে। তাই আর নৌকাতে ঘুরা হয়নি। কিন্তু খুব সম্প্রতি আম্মুর খালাতো ভাইয়ের বিয়ে। দাওয়াত এসেছে ,যদি না যাই তাহেল ওনারা রাগ করবে। তাই আম্মুর আর কিছু করার ছিলোনা। দিনটা ছিল অনেক সুন্দর কোনো মেঘ ছিলোনা। শুধু মাত্র নীল আকাশ , যাদের মাঝে সাদা সাদা তোলোর মতো মেঘ উড়ছে। সেই দিনে নৌকা ভ্রমণ ছিল খুবই মজার বেপার। ওই দিন সকলে বেলা আমরা সবাই রেডি হয়ে যাই।

সেখানে যেতে হলে আগে বাসে তারপর নৌকোয়। আমরা সকাল ৯ টা বাজে বের হয় এবং সবাই বসে উঠে পড়ি। সেই জায়গাটি আমাদের থেকে প্রায় ১ ঘন্টার রাস্তা ছিল। আমার সঠিক জায়গাটার নাম মনে নেই। কিন্তু আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে অনেক দূর ছিলোনা। আমরা বাসে প্রায় ২ ঘন্টার মতো বসে ছিলাম। আমাদের ঢাকা সিলেটের হাইওয়ে রাস্তায় এত জ্যাম যে তিল পরিমান দাঁড়ানোর জায়গা নেই। ঘাটে পৌঁছানোর পর আমরা সবাই মাইল একটি নৌকায় উঠি। নৌকাটা ছিল অনেক পুরোনো।

তবুও আমাদের কাছে অনেক ভালোলেগেছে। নৌকার মাঝি পরনে ছিল একটা লুঙ্গি আর খালিগায়ে মাথায় একটা গামছা বাধা। নৌকার উপরে চালের মতো কিছুএকটা ছিল। আমি নাম জানিনা। নৌকায় বসে আমি পরিবেশটার মজা নিতে থাকি। খোলা আকাশে সাদা মেঘ , একটু পর পর এক ঝাপটা বাতাস আর সাথে নদীর ঢেউ। আমি ভেবেই মুগ্ধ। আমি কিছুক্ষন একদম চুপ করে বসেছিলাম। কারণ আম্মু আমাকে আগেই সাবধান করে দিয়েছিলো ,নৌকায় উঠে যেন কোনো খেলা মেলা না করি। কারণ আমি সাঁতার জানি না।

আমার মামাতো বোন ছিল আমাদের সাথে সে আমার আম্মুকে অনেক ভয় পায়। কিন্তু তবুও সে একটু পর পর নদীতে হাত ডুবাতে লাগলো। আমি দেখে কিছু বলিনি। তার কিছুক্ষণ পর আমিও সেই একই কাজ করতে থাকি। আমার মনটা চাচ্ছিলো ওর মতো নদীর পানি ধরতে। নদীর পানি এতটাই পরিষ্কার ছিল যে যদি তাকাই তাহলে একটু একটু পর পর দুই তিনটা করে মাছ দেখতে পাই। যদি ভালোকরে তাকাই তাহলে আমি অনেক ভয় পেয়ে যাই। এত গভীর যে একটু তাকালেই আমার মাথা ঘুরে। পানি মানুষের জীবন বাঁচায় আবার পানি মানুষের জীবন কেড়েও নিতে পারে।

তখনি আম্মু আমাকে বলল, কিছুদিন আগে এই নদীতে একটা ছেলে গুসল করতে এসে ডুবে মারা যায়। এমনকি তার লাশ ও খুঁজে পাওয়া যায় নি। অনেক ডুবুরিরা আসে খুঁজে করেছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তখন আমার ভিতরে আরো ভয় ঢুকে যায়। এর পর থেকে আমি আর নদীতে হাত ডুবোইনি। ডুবালেই যেন মনে হয় কেউ টানছে নিচ থেকে। আমি জানিনা আম্মুর গল্পটা সত্যি নাকি আমাকে ভয় দেখানোর জন্য শুনিয়েছে। কিন্তু তবুও সে সময়ের প্রকৃতিটা ছিল মধুময়।

প্রায় ঘন্টা খানেক শেষে নৌকা থেকে নেমে আমরা আম্মুর খালাতো ভাইয়ের বউয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। ১০ টাকা করে অটোতে করে চলে গেলাম তাদের বাড়িতে। আমরা সেখানে ১ দিনে মতো থেকেছিলাম। সেখানে যেয়ে আমি সেই নদীর তীরে আসে বসে থাকি। কি মনোরম পরিবেশ ! আমি রীতিমতো মুগ্ধ। আর মনে হয় না খুব তাড়াতাড়ি আর এটার দেখা পাবো। তাই সারাদিন নদীর তীরে এসে বসে থাকি।ঐদিন বিকালে আমরা সবাই মিলে নদীর তীরে ঘুরতে যাই। আমাদের পরিবারের সবাই সেই জায়গার প্রতি মুগ্ধ। সন্ধ্যার সময় আমরা সেই নদীর তীর থেকে বাড়িতে ফিরে আসি।

ঐদিনই ছিল আমার নৌকা ভ্রমণের প্রথম দিন আর এখন পর্যন্ত আর নৌকাতে ভ্রমণ করিনি। সেই দিনটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম একটি স্মৃতিবিজড়িত দিন। সব মিলিয়ে যেন প্ৰকৃতিৰ এক রূপ বৈচিত্র। সব সুন্দর্য যেন নদীর তীরে একত্রিত হয়েছে। বৈচিত্র রকমের নৌকা , এক ঝাপটা বাতাস আর আকাশের নীল সমুদ্রের মধ্যে সাদা সাদা মেঘের ছোটা ছুটি। আমি সেই দিনটাকে জীবনের ডাইরিতে অন্যতম দিন হিসাবে আখ্যায়িত করে রেখেছি ।

{Image.Source}

mXkfdToSwHy1F6xC7iNSf4gD4njuiH2TJnH2d9a7sjEgsxpt7CEU4CDLL7mP9zQRVVSzCik54u9BzkowKWMTJGsSmkpZb2759qFbBrSDc.png


coollogo_com-19946289.gif