
শরৎের সৌন্দর্য
শরৎকাল আমাদের বাংলাদেশের অন্যতম একটি ঋতু। বর্ষার পর পর ই শরৎের আগমন । আমাদের বাংলাদেশের প্রত্যেক ঋতুর ই নিজস্ব নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। তেমনি শরৎকাল তার রূপে আমাদেরকে মুগদ্ধ করে। বর্ষার বৃষ্টিতে প্রকৃতিকে সতেজ করে শরৎের সুন্দর্যে প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলার পরে যে পরিবেশের তৈরী হয় সেটার অনুভতি একমাত্র গ্রামে গেলেই পাওয়া যাবে। আবার অনেকেই আছে যারা শরৎের ছুটি কাটাতে তাদের মাতৃভূমিতে চলে যায়। এবং সেই খানে গিয়ে সে তার শরৎের সাথে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি গুলোকে মনে করতে থাকে আর তাকে উপভোগ করে । শরৎের সুন্দর্যে সবাই যেন মুগদ্ধ।
ভাদ্রের ভোরের সূর্যের আলোয় শরৎ যেন তার আগাম বার্তা দিয়ে যায়। আকাশটা আস্তে আস্তে শান্ত হতে থাকে। দূর হয় কালো মেঘ আর আগমন হয় সাদা সাদা তুলার মতো দেখতে মেঘের। মেঘের স্পর্শে যেন আকাশটা নীল ছায়ায় ভরে যায়। সাথে থাকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির আগমন। পাখি গুলো যেন বন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে তারা যেন বন্দি ছিল। কিন্তু বর্ষার শেষে আর শরৎের আগমনে তারা আবার আগের মতো করে স্বাধীন ভাবে চলা ফেরা করতে পারছে। তাদের দিকে তাকালেই যেন অনুভব হয় শরতের আগমন । এই আগমন বার্তা তাদের কাছেই যেন সবার আগে পৌঁছায়।
গাছপালা যেন তাদের নতুন একটা জীবন ফিরে পায়। তারা যেন প্রকৃতির মাঝে খেলা করতে থাকে। তাদের পাতা গুলো গাঢ় সবুজ রঙে সজ্জিত হয়ে থাকে। এখানে শুধু পাখির আনাগুনা গুনা। পাখিগুলো যেন নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। আর আপন মনে গান গাইছে। নদী যেন বয়ে চলেছে তার আপন মনে। স্বচ্ছ পানি আর পানির মাঝে পুটি মাছ আর বাঁকাঠোঁট ওয়ালা মাছের আনা গুনা । সেই সময়টায় নদীর কিনারায় বসে থাকা যেন স্বপ্নের মত। অনেক ভালোবাসি সেই হারিয়ে ফেলা দিন গুলোকে।
আমাদের গ্রামের পাশেই একটা নদীর মতো খাল বয়ে গেছে। তার পাশেই আবার খোলা মাঠ। দুপুর গড়াতেই সেখানে ক্রিকেট আর ফুটবল খেলার ধুম পরে। নদীর কিনারে বসে সেই খেলা উপভোগ করার মজাটাই যেন আলাদা। একদিকে নদীর পানির বয়ে যাওয়ার সৌন্দর্য অন্যদিকে দূষণহীন বাতাস। মাথার উপরে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে। আর সূর্যটা সাদা মেঘে ঢেকে আছে। তবুও বুঝা যাচ্ছে সূর্যটা যেন রক্তিম লাল হয়ে আছে। সেই সময় নদীর পানিতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ বয়ে চলে ছিল। নদীর পানি এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে তার নিচে কি আছে সেটাও অনুমান করে বলে দেয়া যাবে।
নদীর মাঝে লাল আর সাদা শাপলার আগমন হয় সেই শরৎ কালে। নদীর মাঝে সাদা আর লাল রঙের বাহার। তার পাস দিয়ে মাছ গুলি সাঁতার কাটছে। সব মিলিয়ে যেন এক অপরূপ সুন্দর্যের মেলা। সব কিছু যেন একসাথে দলবেধে প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলেছে। সবাই বর্ষার দিনগুলোতে অলসতা অনুভব করে শরৎের প্রত্যেকটা মুহর্থকে উপভোগ করে। যেটা আমিও করেছিলাম।
শরৎের আগমনে সেটার প্রকৃতিকে উপভোগ করার জন্য অনেকেই গ্রামে যায়। আসলেই এই পরিবেশটা অন্যকোনো ঋতুতে পাওয়া কষ্টকর। সবুজে ঘেরা মাঠে কাশফুলের ছোট ছোট দানা গুলি আকাশের আপন মনে ঘুরে বেড়ায়। আমি গত বছর গ্রামে ছিলাম বলে সেই দিনগুলোর সাথে পরিচিত হতে পেরেছিলাম। আর কোনদিন সেই দিন গুলো খুঁজে পাবো কিনা জানিনা কিন্তু সেই ঋতুটার স্মৃতি গুলোকে জীবনে ডাইরিতে সবসময় লিপন করে রাখবো।

