আসালামুআলাইকুম,

আজকে আমি চলে এসেছি,আমার খুব খুব পছন্দের একটি রেসিপি নিয়ে।
আমার আজকের রেসিপি টির নাম হচ্ছে, সামুদ্রিক টুনা মাছের সুস্বাদু তরকারি।
টুনা মাছ অনেক সুস্বাদু একটি সামুদ্রিক মাছ। এ মাছটি সব জেলার মাছ বাজারে পাওয়া যায় কিনা? আমি জানিনা। তবে চট্টগ্রামে প্রতিটি মাছ বাজারে পাওয়া যায় এই মাছটি।
কারণ চট্টগ্রামে সব রকমের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়।
আমরা সবাই জানি সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে।
এই পুষ্টিগুণ আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী।
টুনা মাছ ছোট-বড় সবাই খেতে খুব পছন্দ করে আমার ঘরের। কারণ টুনা মাছের কোন কাটা নাই বললেই চলে। যারা কাটার ভয়ে মাছ খেতে চায় না।তাদের জন্য টুনা মাছ টি খুব পছন্দের।আর অন্য মাছের তুলনায় টুনা মাছে মাংসের পরিমাণটা বেশি থাকে।
টুনা মাছ আমি খেতে খুবই পছন্দ করি।তাই সপ্তাহে দুই,তিন বার আমার ঘরে খাওয়া হয় এই মাছটি,
আমি এই সুস্বাদু টুনা মাছের তরকারি কিভাবে রান্না করেছি। তা আমি আপনাদের ধাপে ধাপে দেখাবো। তাহলে কথা না বাড়িয়ে চলুন।

উপকরণ,
টুনা মাছ 250 গ্রাম,
টমেটো 2-টি,
পেয়াজ 1-টি,
কাঁচা মরিচ 5-6 টি,
লাল মরিচ গুড়া 1/3 চামচ,
হলুদ গুড়া 1/2 চামচ,
জিরা,ধনিয়া,কালোজিরা,মেথি গুড়া 1/2 চামচ,
সয়াবিন তেল 4-চামচ,
লবণ স্বাদ মত,
ধনিয়া পাতা পরিমাণ মত,

প্রস্তুত প্রণালীঃ
প্রথমে টুনা মাছ গুলো মাঝারি আকারের টুকরো করে নিব। তারপর পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিব। মাছের টুকরো গুলো।
তবে টুনা মাছ টুকরো করার সময়, একটু সাবধানে টুকরো করতে হবে। বিশেষত বাজারে টুনা মাছ পাওয়া যায় সেগুলো বরফ দেওয়া থাকে। তাই টুকরো করার সময় বরফ থাকা অবস্থায় টুকরো করলে। টুকরোগুলো ভেঙ্গে যায় না।

টুনা মাছ ধুয়া হয়ে গেলে।চুলায় একটা পাতিলে চার চামচ তেল দিব।তেল গরম হলে, পেঁয়াজ কুচি এবং কাঁচামরিচ টুকরোগুলো পাতিলের দিয়ে হালকা ভেজে নিব।

পেঁয়াজ কুচি এবং কাঁচা মরিচ টুকরো হালকা ভাজা হলে। টুকরো করে রাখা টমেটো এবং একে একে সব মসলা পাতিলে দিয়ে দিব পেঁয়াজের সাথে।
বন্ধুরা, আমি টুনা মাছ রান্না করি সবসময়। তবে টুনা মাছ রান্না করার জন্য আমি আলাদা করে মসলার গুঁড়া ব্যবহার করে থাকি। আর এই মসলা আমি নিজে গুড়া করে থাকি। জিরা, ধনিয়া, মেথি,কালোজিরা, একসাথে দিয়ে। এই মসলা দিয়ে যখন টুনা মাছ রান্না করা হলে। তখন মাছের তরকারি ঘ্রাণ টা অসাধারণ লাগে।খেতে অনেক সুস্বাদু লাগে।
আপনারা চাইলে অন্য মসলা দিয়ে টুনা মাছ রান্না করতে পারেন। মসলার সাথে রসুন বাটা দিয়ে রান্না করতে পারেন। তবে আমি এই তরকারিতে রসুন বাটা ব্যবহার করিনি।

সব মসলা দিয়ে চামচের সাহায্যে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে ভেজে নিব। তারপর অল্প পানি দিয়ে মসলা কিছুক্ষণ কষিয়ে নিব। মসলা এবং টমেটো কষানো হয়ে গেলে। আমি একটা একটা করে মাছের পিস মসলার সাথে পাতিলে দিয়ে দিব।

মাছের পিস গুলো মসলার সাথে ভাল করে চামচের সাহায্যে নেড়েচেড়ে কষিয়ে নিব 2 মিনিট।
মাছের পিস গুলো নেড়েচেড়ে দেওয়ার সময়, একটু সাবধানে নেড়েচেড়ে দিতে হবে।যেন মাছের পিস গুলো ভেঙ্গে না যায়।

2 মিনিট পর মাছগুলো কষানো হলে,পরিমাণমতো পানি দিয়ে। টুনা মাছের টুকরো গুলো রান্না করবো। চুলার মাঝারি আঁচে 15 মিনিট।

15 মিনিট পর টুনা মাছের ঝোল শুকিয়ে গায়ে গায়ে হলে। পরিমান মত ধনেপাতা কুচি ছিটিয়ে দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিব।

টুনা মাছের এই সুস্বাদু তরকারি টি আমি গরম ভাতের সাথে খেতে খুব পছন্দ করি। আমার খুব পছন্দের এই রেসিপিটি।
আপনারা চাইলে ভাত,পোলাও সাথে খেতে পারেন।
আমার রান্না করা টুনা মাছের সুস্বাদু তরকারি টি। যদি আপনাদের ভালো লাগে। তাহলে অবশ্যই ঘরে রান্না করে খেয়ে দেখবেন।আশা করি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে।
ধন্যবাদ,