নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ

in BDCommunity5 years ago

আসসালামু আলাইকুম



images (5).jpeg

Source

নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ


শুভ নববর্ষ ২০২১- এ পূর্ণ হলো নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার একশত বছর। একশত বছর আগে নজরুল বিদ্রোহী কবিতায় কামনা করেছিলেন, ' উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না। ' বল বীর আখ্যায়িত করে যে মানুষকে তিনি এই আশার বাণী শুনিয়ে শান্ত হতে চেয়েছিলেন সেই মানুষ আজ ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রীয় বিভক্তির মাঝে নিপীড়িত, নির্যাতিত। অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম আজ এ তিনটি দেশের কোন দেশে অনুপস্থিত তা আমাদের বলার সাধ্য নেই।

নজরুল ১৯২১ সালে যখন বিদ্রোহী কবিতাটি রচনা করেন তখন তিনি এই তিনদেশের সমন্বিত পরাধীন ভারতবর্ষের নাগরিক ছিলেন। মানুষের মুক্তিকামনাকারী নজরুল ভারত-পাকিস্তান বিভক্তিও চাননি বরং ব্যঙ্গ করেছিলেন 'ফাঁকিস্তান ' বলে। সময়ের পরিবর্তনে তাঁর না চাওয়াই আজ সত্যে পরিণত হয়েছে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ তিনি চাননি । সমাজে কেউ ধনী কেউ দরিদ্রে থাকবে এবং মানুষ, মানুষকে জোঁকের মতো শোষণ করবে সেটি তিনি কামনা করেনি ; সারাজীবন সমস্ত চিন্তাশক্তি দিয়ে এসবের বিরুদ্ধে তিনি লড়েছেন। রাজনীতির নামে সুবিধাবাদ ও সংকীর্ণতা দেখে তিনি লিখেছেন, ' আজ রাজনীতির ক্ষেত্রে কেবল ফাঁকিবাজি, সঞ্চিত ধনের গাদায় বসে অথবা Public Fand - এর অপহরণে অথবা প্রজার রক্ত শোষণ করে যে নিশ্চিন্তে আছে আজ তারই নেতাগিরির দিন। '

ধর্মে ধর্মে বিভেদ তিনি চাননি। এসবের বাইরে মানুষের সাম্য-কামনাই ছিল তাঁর জীবনভর সাধনা। তিনি এজন্য লিখেছেন, ' কাণ্ডারি বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার। ' কিন্তু আজ আমাদের সমাজে মানুষই ডুবছে। মানুষকে রক্ষা করার কোন কান্ডারি নাই। তিনটি দেশে মানুষ, মানুষ হিসেবে কতটা মর্যাদাসীন তা প্রশ্নসাপেক্ষ। একজন মানুষ হিসেবে নজরুল ইতিহাসের মাইলস্টোন বলেই লিখেছেন ' বিদ্রোহী 'র মতো কবিতা। যে কবিতা একটা সময়ের প্রতিনিধিত্ব করেছে।

বিশের দশকে ভারতবর্ষে পৌনে দুশো বছরের শাসন-শৃঙখল ভাঙার শেষ প্রান্তে উপনীত ঠিক সেই সময় স্বাধীনতাকামীদের মুখে বিদ্রোহী কবিতা দিয়ে নজরুল এমন একটা গতিময়তা দান করেন যা চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছার কাজ করে। সেসময় স্বদেশী আন্দোলনকারীদের মুখে মুখে বিদ্রোহীর পংক্তিসমূহ উচ্চারিত হতো।

বাংলা সাহিত্যে এমন প্রাণস্পন্দিত কবিতা আর নেই যেখানে মানুষকেই বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে মুক্তির ডাক দেয়া হয়েছে । নজরুলের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে ফুটে উঠেছে মানুষের উদ্দেশ্য। মানুষকে এত মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন খুব কম কবি।