আরে যার ছায়াতেই বেড়ে উঠেছিলাম,
তাকেই পাঠিয়ে দিলাম বৃদ্ধাশ্রমে।
যে জাতি শুধু লোকদেখানোর জন্য বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা দেখায় তাদেরকে কি নামে ডাকবো সেটা আমার জানা নেই। গতকালে সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু দৃশ্য দেখে আমি সত্যি নিস্তব্ধত। মনে মনে ভাবছিলাম সব বাবা-মা হয়তো বৃদ্ধাশ্রম থেকে বাড়ি ফিরেছে।কিন্তু একটু হলেও তো আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা আছেই।কল্পনার রাজ্যে আর কতদিনই থাকবো। যেই বাবা - মায়েরা সন্তানদের সোনার চামচ মুখে দিয়ে বড় করেছে। আর সেই সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবার পর বাবা মাকে বোঝা মনে করে। তাদের দেখা শোনা করার মতো সময় নেই।

আরে আমরা তো সেই জাতি বাবা যদি কোন ছোটখাটো কাজ করে সেটা বলতেই লজ্জা পাই।এমন অনেকেই আছে যারা নিজের বাবার পরিচয়টাই দিতে চায় না। কলেজে থাকতে ফৌজিয়া ম্যাম ক্লাসে একদিন গল্প বলছিলেন, সেই গল্পটি কাল্পনিক ছিল না। তিনি বলেছিলেন ছেলের আবদার পূরণ করাই যেন বাবা -মায়ের কাজ। ছেলেকে মোটরসাইকেল কিনে দিতে পারেনি বলে ছেলে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছিলো।
ঐশির কথা কি ভুলে গেছেন। কিসের কমতি ছিল তার? নির্মম ভাবে বাবা-মা কে হত্যা করেছিলো।
অবশ্য ঐশির জগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন আদালত।এতেই শেষ হয়নি, কয়েকদিন আগের কথা শুধু ফেসবুকে নয় টিভিতেও দেখেছিলাম ১০ বছরের শিশু মায়ের কাছে ৫ টাকা চেয়েছিল। মা টাকা দেয়নি বলে মা কে ছুরি দিয়ে আঘাত করে শিশুটি। সাধারণত আমরাই বলে থাকি সমাজ,পরিবার থেকেই শিশু শিক্ষা গ্রহণ করে।তাহলে এই হিংস্র সমাজ গঠন করার জন্য দায়ী কে? কারো কাছে কি উত্তর আছে?একজন অমানুষ যে তার পরিবার, সমাজের জন্য কিছুই করতে পারে না। তাহলে রাষ্ট্রের জন্য কি করবে?
এতেই শেষ নয়,
এক বৃদ্ধ বাবা বৃদ্ধাশ্রম থেকে তার ছেলেকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন সেখানে লেখা ছিল বাবা তুই কেমন আছিস। দোয়া করি বাবা আমার সন্তানের মতো তোর সন্তান যেন না হয়। হাজার কষ্ট বুকে চাপা দিয়েই এই চিঠি লিখেছিলেন।
ভাগ্যক্রমে একবার আমি রংপুরের প্রয়াস বৃদ্ধাশ্রম গিয়েছিলাম। ২০১৪ সালে প্রয়াস বৃদ্ধাশ্রমটি নির্মিত হয়। সেখানে গিয়ে আমি দেখি অনেক বড় বড় পদে চাকরি করা ব্যক্তিরাই তাদের বাবা-মাকে এখানে রেখে গেছে। এক মা বার-বার তার ছেলেকে কল করছিল কিন্তু কথাই বলা হয়নি। সে নাকি প্রায় দু বছরের বেশি সময় ধরে এখানে আছে। কয়েক মাস পর পর ছেলে এসে দেখা করে যায়। এটাই বাস্তবতা কেউ বৃদ্ধশ্রমে রাখে কেউবা বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কয়দিন আগের কথায়, করোনা হওয়ার কথা বলে বৃদ্ধ মাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় ।এরকম সন্তানদের জন্য সারাজীবন কষ্ট করার কোন প্রয়োজন ছিল না আমি মনে করি।
আমাদের দেশের নতুন প্রজন্ম কি শিখবে?
একদিন ঠিকই যে বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছিলো, সে সৌভাগ্য ছেলের সন্তান তাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসবে।
আজ থেকে না হয় আমরা মন-মানসিকতা বদলে ফেলি নিজের আপনজনদের ভালোবাসি।অনেকেরই এই বাবা নামক বৃক্ষছায়া টি সাথে নেই। সেই বুঝতে পারে পৃথিবীতে কত কষ্ট করে বাঁচতে হয় এজন্য আমরা যেমন সোশ্যাল মিডিয়াতে বাবা-মার প্রতি ভালোবাসা দেখায়ই। তেমনি বাস্তব জীবনেও তাদেরকে সত্যি ভালোবাসি। এতদিন তারা আমাদের সুখের জন্য যা করেছে সেই ঋণ কোনদিন আমরা শোধ করতে পারব না। কিন্তু হ্যাঁ তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তো কিছু করতে পারি।
না হয় ৫ টাকা দিয়ে একটা গোলাপ ফুল কিনে মাকে উপহার দেই। আর আপনারা যদি পারেন তাহলে আপনাদের বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রম থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনুন। বৃদ্ধ বাবা-মার ইচ্ছে করে নাতী-নাতনীদের নিয়ে খেলতে, তাদের সাথে গল্প করে সময় কাটাতে। আর হ্যা গর্ব করে বাবা মার পরিচয় দিন। আপনি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন আপনার বাবা মার জন্য। অন্য কে কি ভাবলো সেটা মনে না করে আপনার বাবা-মাকে বন্ধুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন।অবশেষে একটি কথাই বলতে চাই বাবা-মার দোয়া ছাড়া কখনোই কিছু করা সম্ভব না। তাই যারা আমাদের এত আদর স্নেহ করে বড় করেছে তাদেরকে আঘাত না করে একসাথেই শান্তিতে থাকার প্রতিঙ্গা করুন।
আমি নিহা। তেমন কিছুই বলার নেই আমার সম্পর্কে। তবে লেখালেখি করতে ভালোবাসি।

Congratulations @niha! You have completed the following achievement on the Hive blockchain and have been rewarded with new badge(s) :
You can view your badges on your board And compare to others on the Ranking
If you no longer want to receive notifications, reply to this comment with the word
STOPTo support your work, I also upvoted your post!
Support the HiveBuzz project. Vote for our proposal!
This post earned a total payout of 11.358$ and 5.679$ worth of author reward that was liquified using @likwid.
Learn more.