শৈশব জীবন-সে তো ছিল পদ্ম পাতার শিশির বিন্দু আর খেলাধুলার অবাধ স্বাধীনতা।

in BDCommunity5 years ago (edited)

আমার পাশের গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- স্কুলজীবনের শুরুটা সেখান থেকেই। সেদিনের স্কুলের দেওয়াল গুলোর ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া হলদে রঙের দালান আর সামনে ছোটখাটো একটি সবুজ মাঠ, স্কুলের সাথে লাগানো একটি পুকুরঘাট,সামনে পশ্চিম দিকে একটা মসজিদ- চমৎকার ছিল পরিবেশটা।স্কুলের বারান্দার সামনে ছিল অনেক সুন্দর একটি বাগান-যা আমাদের প্রধান শিক্ষক এর হাতে করা। মাঠের এক পাশে জাতীয় পতাকা, তার সামনেই প্রতিদিন সকালে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে সমস্বরে গাইতাম জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”। ২০০০ সালের কথা। আমি নীল হাফপ্যান্ট, সাদা শার্ট, ডান বুকে নেমপ্লেট আর বামে স্কুলের ব্যাজ পরে সেই আঙিনায় প্রথম পা রেখেছিলাম বাবার হাত ধরেই।
04_58807.jpg

image source
এর পর বাবা সেদিন সাইকেল করে প্রথমেই নিয়ে গেলেন প্রধান শিক্ষকের রুমে। আমার প্রথম প্রধান শিক্ষক নাম ছিল (মোঃ নজরুল ইসলাম) তিনি ছিল চশমা পরা, কাঁচা-পাকা দাঁড়ির প্রাণবন্ত সেই স্যার হাসতে হাসতে আমায় কিছু প্রশ্ন করেছিলেন। এরপর আমাকে পাঠিয়ে দিলেন ক্লাসরুমে। তেমন বেশি কিছু মনে নেই আর সেই দিনটার কথা। শুধু মনে আছে, ক্লাসরুমের দরজায় সামনে দাঁড়িয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি অপরিচিত কিছু মুখের দিকে আর তারচেয়েও বিস্ময়মাখা দৃষ্টিতে এক ঝাঁক ছেলে-মেয়ে নির্বাক হয়ে দেখছে আমাকে।
Primary20190201082613.jpg

image source
আমার শৈশব’ বলতেই মনে পড়ে হাজারটা রঙিন-মলিন স্মৃতিমাখা অবাধ স্বাধীনতার অসাধারণ কিছু দিনের কথা।যা আমার শৈশব জীবনে তথা যখন আমি প্রাইমারীতে পড়তাম সেই সময়টার কথা, জীবনের শেষ মূহূর্তেও স্মৃতির পাতায় রয়ে যাবে।আমার শৈশব জীবন! সে তো পদ্ম পাতার শিশির বিন্দু। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে একটু একটু করে প্রখর হওয়া- “ভোরের প্রথম আলোকরশ্মি কিংবা শীতের রাতে টিনের চালের টুপ-টাপ শীতের পরা শব্দ” – এইতো জীবন। স্বল্পায়ত, কিন্তু বড্ড বেশিই বৈচিত্র্যময় ছিল।যেমন বিয়ের আসরে সদ্য পা রাখা নববধূটির মত ‘জীবন’টাকেও সাজানোর জন্য আমাদের কত প্রয়াস, কত ব্যস্ততা। এর মাঝেও ফেলে আসা আমাদের কিছু মুহূর্তগুলোর জন্য একবার হলেও সবাইকে পিছনে তাকায়- আর অবাক হয়ে আবিষ্কার করে স্মৃতির অ্যালবাম সাজিয়ে বসে থাকা সুবিন্যস্ত সে শৈশবজীবনে অপেক্ষমান স্মৃতিগুলোকে।পৃথিবীতে এমন কোন ব্যক্তি নেই যে তার জীবনের শৈশবকে ভুলে যেতে পারে,ভুলে যেতে পারে সেই সমস্ত্য স্মৃতিপাতা-যা কিনা আজও মনে পড়ার কথা।
আমার স্কুল জীবনে অর্থাৎ প্রাইমারীতে ৩য় শ্রেনীতে পড়ার সময়- আমার ‘রচনা’ কিংবা ‘Composition’ লেখার সবচাইতে পছন্দের বিষয় ছিল ‘শৈশব স্মৃতি’ বা ‘Childhood Memories’। আজও মনে পড়ে; প্রশ্নপত্র পেয়ে সবার আগে দেখতাম রচনার অংশটা। আর সেখানে কাঙ্ক্ষিত পছন্দের বিষয়টা থাকলে তো কথাই নেই। অদ্ভুত এক হাসি ফুটে উঠত মুখে। প্রিয় বিষয় নিয়ে লিখতে লিখতে কখন যে স্মৃতির গহীনে হারিয়ে যেতাম, টেরই পেতাম না।
salo_1554955682.jpg

image source

আমি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি তখন। বার্ষিক পরীক্ষা। পরদিন বাংলা ২য় পত্র। তখন আমার কাছে বাংলা ২য় পত্র মানেই ‘রচনা’ নামক এক বিভীষিকার মুখোমুখি হওয়া। রচনা শিখেছিলাম দুটো- ‘ধান’ আর ‘পাট’; একটা আসবে নিশ্চিত। আগের দিন রাতে আমার চাচাতো বড় ভাই বেশ ভালোভাবে বলে দিলেন কোন রচনা এসেছে ভালো করে দেখে তারপর লিখা শুরু করতে। পরদিন প্রশ্ন পেয়ে দেখি- ‘পাট’। আমি তো মহাখুশি। মহানন্দে লিখা শুরু করলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ লিখেই আবিষ্কার করলাম, আমি আসলে ‘পাট’ লিখছি না, লিখছি ‘ধান’। সাথে সাথে কপালে চিন্তার বলিরেখা। কাটাকাটি করলে যে খাতাটা দেখতে সুন্দর লাগবে না! খাতার সৌন্দর্য রক্ষার্থে তাই ‘ধান’ লেখাই শ্রেয় মনে করলাম। অতএব খাতা দেওয়ার পর রচনায় প্রাপ্ত নম্বর ২০ এ ০৩…! সেই ‘বিচক্ষণতা’র কথা মনে পড়লে আজো হাসিতে ফেটে পড়ি।

আমি মাঝে মধ্যে স্মৃতিভাণ্ডারের এমন হাজারো স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতে বেড়াতে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ি । এ যেন এক অন্য জগত! বুকের সংগোপনে লুকিয়ে রাখা এক অনন্য ‘Dreamland’। যেখানে আরেকটিবার ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল আকুতি সবার, কিন্তু... চাইলেই কি সব হয়? ছোট থাকতে কত ভাবতাম, “ইস্, কবে যে বড় হব!” সেই ‘বড় হওয়া’ আজ সত্য বটে। কিন্তু এই এক বড় হওয়াই যেন নিয়ে গেল জীবনের অবাধ স্বাধীনতার চিন্তাহীন নির্মল এক অধ্যায়। তাই মাঝে মাঝেই ফিরে তাকাই, ফিরে তাকাতে হয়। ভাবতে হয় সেই সব দিনের কথা। কখনোবা ভাবতে ভাবতে ছলছল করে উঠে চোখ, কখনোবা অকস্মাৎ ফেটে পড়ি হাসিতে। তবুও সেসব মুহূর্তকে বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরে ভালোই আছি। ভোলা তো যায় না আর সেই সব স্মৃতি।
chelebelar-sriti-nie-bani-o-ukti-bongquotes-1024x1024.png

image source

আজ আমার-আপনার শৈশব হারিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে অনেক খেলা। এখন সেসব খেলার কথা মনে হলে খেলার সঙ্গীদের কথা মনে পড়ে যায়, মনে পড় শৈশবের হারিয়ে যাওয়া খেলা আর স্মৃতির কথা। আমরা উদাস হয়ে যাই কিছুক্ষণের জন্য হলেও।"শৈশব"শব্দটা শুনলেই কেমন যেন একটা ধূসর গল্পের জগৎ সামনে চলে আসে। নির্ভার, চিন্তাহীন একটা সময়। কত কী ই–না করেছি আমরা সে সময়! কত গল্প, কত দুষ্টুমি আর কত খেলা। যাঁরা এখন এই লেখার পাঠক, তাঁদের শৈশবের স্মৃতি এখন বেশ খানিকটা ফিকে হয়ে গেছে। শৈশবের কথা উঠলেই এখন খেলার সঙ্গী, খেলা, খেলার মাঠ আর কত হাজারো রকমের স্মৃতি ভেসে ওঠে মনে। খেলার সঙ্গীরা এখন কে কোথায়, সেটা জানা নেই। কিন্তু খেলার স্মৃতিটুকু রয়ে গেছে। চলুন আজ আমাদের আরেকটু উসকে তোলা যাক সেই স্মৃতিগুলি।
আমাদের গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় একটি খেলে হাতের ওপর লাটিম ঘোরে! এই খেলাটি শিখেছিলম বড়দের কাছ থেকে।অনেক কয়েকশত বার চেষ্টার পর আমি হাতের ওপর লাটিম ঘোরে শিখেছিলাম -যা আজ ও ইচ্ছে করে ।মাঝে মধ্যে ছোটদের কাছ থেকে নিয়ে একটু ট্রাই করি কিন্তু সেই আর আগের মত হয় না।

prothomalo_import_media_2019_01_16_758e8c1c87d1f9303fb6bdb33d544402-5c3ee75a89735.jpg

image source
আমি যদিও লাটিম ভাল খেলতে পারতাম না ,বলে সবাই আমার নতুন লাটিম মেরে মেয়ে রঙিন লাটিম ক্ষতবিক্ষত করে দিত।লাটিম বা লাট্টু আমাদের বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি শিশুতোষ খেলা। লাটিম খেলতে পারে না, এ রকম মানুষ খুব কম আছে আমাদের সমাজে।আমাদের ছেলেবেলার অত্যন্ত প্রিয় খেলাগুলোর মধ্যে এটি একটি। এটি শুধু খেলাই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার-আপনার ছেলেবেলার বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি, মায়ের মাটির ব্যাংক ভেঙে টাকা চুরি করে রঙিন লাটিম কেনার একরাশ স্মৃতি। যখন নতুন কেনা রঙিন লাটিম দিয়ে কাউকে হারিয়ে দেওয়ার যে সুখস্মৃতি, তা এখনো চোখে লেগে আছে। যখন উল্টো দিকে, একের পর এক ‘শত্রু’দের লাটিমের হামলায় চোখের সামনে নিজের রঙিন লাটিম ক্ষতবিক্ষত হতে দেখার স্মৃতি এখনো আমাদের পীড়িত করে নিজের অজান্তেই।

‘এই মেরেছি!’ গুলি বা মার্বেল।

মার্বেল.jpg

image source
গুলি বা মার্বেল কথা বলতে গেলে আমি বেশিরই ভাগ মার খেতাম বাসায়। কারন খেলতে গিয়ে পাড়ার ছেলেদের সাথে আমার ঝগড়া হত মাঝে মধ্যে।কাচের ছোট্ট গোলাকার কালচে সবুজ মার্বেল খেলেনি কে? সে ধরনের মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। কী যে এক উদ্দাম নেশা ছিল কারও কারও এই মার্বেল খেলার প্রতি, সেটা বলে বোঝানো যাবে না। পকেটে বা কোঁচড়ে মার্বেল নিয়ে ঘুমানোর সেসব দিনের কথা মনে পড়লে নিজের অজান্তে উদাস হওয়া ছাড়া আর কীই-বা করার আছে এখন! স্কুল ছুটি হলে বা স্কুল পালিয়ে মার্বেল কিনতে যাওয়া, বাবা কিংবা বড় ভাইয়ের হাতে ধরা পড়ে পিটুনি খাওয়া বা একবেলা খাওয়া বন্ধ—সেসব দিন কেবলই স্মৃতিকাতর করে তোলে আমাদের।

‘উড়িস না, উড়িস না...।"গুলতি"

Gulti.jpg

image source এক বার আমার গুলতি ছিড়েগিয়ে আমার হাতের মধ্যে লেগেছি ব্যথা কাতর ছিলাম।আমের মৌসুমে অনেক আম গাছ থেকে গুলতি দিয়ে আম পারাতাম পাড়ার গাছগুলো থেকে।ভরদুপুরে পুরো এলাকা যখন শান্ত, নিশ্চুপ, পকেটে গুলতি বা বাটুল নিয়ে এক দৌড়ে পাশের বাঁশবন বা পুরোনো কোনো গাছের নিচে উপস্থিত হওয়া, তারপর টার্গেট প্র্যাকটিস। গ্রাম হোক অথবা শহর, গুলতি বা বাটুলে টার্গেট প্র্যাকটিস অথবা পাখি শিকার ছিল শৈশবের রঙিন স্বপ্ন বাজির অন্যতম অনুষঙ্গ। যাঁরা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট এরশাদের স্বৈরচারবিরোধী আন্দোলন দেখেছেন, তাঁদের স্মরণ থাকার কথা এই গুলতির বিকল্প ব্যবহার। মিছিলে পুলিশের ধাওয়া আসার সময় শৈশবে ব্যবহার করা এই যন্ত্র অনেকেই ব্যবহার করেছেন পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। সাইকেলের টিউব অথবা ইলাস্টিক এবং গাছের ডাল দিয়ে বানানো এই যন্ত্র এখন আর খুব একটা দেখা যায় না।

ভোঁ–দৌড়। গোল্লাছুট।
village-Cipher-run-Game-600x393.jpg

image source
ঠিকভাবে দূরাতে পারতাম না বলেও, বিকেলবেলা খোলা মাঠে হইচইয়ের মধ্যে খেলতাম গোল্লাছুট। পাড়ার সবাই উপস্থিত। কী করতে হবে আর হবে না, তা নিয়ে খেলোয়াড়দের চেয়ে দর্শকদের চিন্তাই যেন বেশি। এরই মধ্যে দৌড় দিল কোনো এক খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে। সফল হলে বিশাল উল্লাসধ্বনি আর বিফল হলে আফসোসের সুর। এই খেলার সঙ্গেই যেন জড়িয়ে আছে আমাদের রঙিন শৈশবের গল্প। গোল্লাছুট ছাড়া আমাদের শৈশবের গল্প ঠিক জমে না। কিশোর-কিশোরীনির্বিশেষে এই খেলা হয়ে থাকে। দুই দল খেলোয়াড়। এক দল হাতে হাত ধরে পালানোর পথ খুঁজছে। অন্য দল ধরে ফেলার চেষ্টা করছে। ভীষণ উত্তেজনার সে খেলা। খেলার মাঠ হারানোর সঙ্গে সঙ্গে গোল্লাছুটও হারিয়ে গেছে আমাদের জীবন থেকে।

‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছোঁ’। কানামাছি।

Photo0052.jpg

image source
কানামাছি খেলার কথা মনে হলে ,শরীরের ফিছনের দিকে কথা -যার বেশি ভাগ আমার খেতে হত।যার ফলে খেলায় একটু তালবাহান করে পালিয়ে যেতাম বাসায়।
‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছোঁ’—ভরদুপুরের অবসরে এখনো কানে বাজে এই সুর। এক অলৌকিক মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে মস্তিষ্কে। সময় হয়তো কিছুটা আটকে যায়। অথবা আমরাই আটকে যাই ‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ’র মাদকতায়। ফিরে যাই নির্মল শৈশবের দিনগুলোয়। বিকেলের চুরিয়ে যাওয়া আলোয় একদঙ্গল ছেলেমেয়ে চোখ–বাঁধা কানামাছিকে ‘টুকি’ দিতে দিতে সুর করে গলা ছেড়ে গাইছে ‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছোঁ’। অথবা স্কুলের টিফিনের স্বল্প সময়ে একই দৃশ্যের পুনরাবর্তন। কানামাছি একজনকে ছুঁয়ে দিল, তো নতুন এক কানামাছির জন্ম হলো। এভাবে একের পর এক কানামাছির পরিবর্তন। কিন্তু সুর ও ছন্দ অপরিবর্তনীয়। আপনার বয়স যা–ই হোক না কেন, হারজিতের প্রশ্নহীন কানামাছি খেলার সেই ছন্দ ও সুর আপনাকে এখনো স্মৃতিকাতর করে তুলবেই।

‘পারলে যা দেখি...।’ দাঁড়িয়াবান্ধা।

image_search_1604216945324.jpg

image source
দাঁড়িয়াবান্ধা খেলাতে আমি ছিলাম জিরো।এক দাগ পার না হতেই মারা পরি।যা আমার পক্ষে অসম্ভব ব্যপার ছিল।
প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে একটা একটা করে ধাপ পেরিয়ে যাওয়া অনেক কষ্টের প্রতিক ছিল আমার! প্রতিটি ধাপে ধূর্ত শেয়ালের মতো বুদ্ধি খাটিয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে চলা। দুরন্ত শৈশবের উত্তেজনাকর খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল এই দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা।
গ্রামের অত্যন্ত জনপ্রিয় শারীরিক পরিশ্রমের এই খেলা। বিকেলবেলা হইহল্লা হবে, হারজিত নিয়ে ঝগড়া হবে, এই না হলে খেলা! দাঁড়িয়াবান্ধা তেমনই একটি খেলা। ছোট ছোট কোর্ট বানিয়ে খেলা হতো। বিভিন্ন এলাকায় একে বিভিন্ন নামে ডাকা হয় এবং অঞ্চলভেদে এর নিয়মকানুনেও ভিন্নতা থাকে। কিন্তু মূলত প্রতিপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে এক কোর্ট থেকে অন্য কোর্টে গিয়ে পয়েন্ট বাগানোই এই খেলার মূল উদ্দেশ্য। তাই এই খেলায় থাকে উত্তেজনা। ধান কাটা হয়ে গেলে এই খেলার আসর বসত খোলা মাঠে। অবশ্য গ্রামীণ স্কুলগুলোর মাঠেও থাকত দাঁড়িয়াবান্ধার কোর্ট। এখন এটি খুব একটা খেলা হয় না।

‘আমি ভাত রাঁধতে পারি।’ জোলাপাতি।

ছোটবেলারস্মৃতি।।।_23db4995-0c1a-4e8c-8473-fcd8ef839d60-af251f10-ae75-44b8-978e-bd1e5e3826a6_cmprsd_40.jpg

image source

ছোট বেলায় কাঠাল পাতা দিয়ে অনেক বাজার করেছি।খুব ছোটবেলায়, যখন আপনি টাকাই চেনেন না, তখন কি বাজার করেছিলেন? কিংবা যখন ভাত রান্না করতে পারার কথা নয়, তখন ভাতের হাঁড়ি চুলায় তুলেছিলেন? কিংবা একদঙ্গল ছেলেমেয়েকে হাঁড়ি থেকে খাবার বেড়ে দিয়েছিলেন? এখন যখন আপনি নিজেই সংসারে ব্যস্ত, তখন হয়তো আপনার সেসব কথা ভেবে দেখার সময়ই নেই। কিন্তু ভেবে দেখুন, বাড়ির পেছনের ফাঁকা জায়গায়, ঘরের কোণে, গাছতলায় আপনি সেই শৈশবে আপনার সংসার সাজিয়েছিলেন খেলার ছলে! সে কী ব্যস্ততা আপনার! মনে পড়ে? হয়তো আপনার সন্তান সঙ্গীর অভাবে এখন সে খেলা আর খেলতে পারে না।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, বড়রা যা করে, ছোটরা তা–ই শেখে। জোলাপাতি খেলা ছোটদের ‘বড় খেলা’! জোলাপাতি বললে অনেকেই এই খেলাকে নাও চিনতে পারেন। কিন্তু ‘হাঁড়িপাতিল’ বা ‘বউ বউ’ বললে চিনতে পারবেন সহজেই। শিশুদের স্বপ্নের সংসার এই জোলাপাতি। ভবিষ্যতে সে যে সংসারে প্রবেশ করবে, এই খেলা যেন তারই ‘পাকা তালিম’।

মার ছক্কা। ডাংগুলি।

Danggoli.jpg

image source
সাবধানের মারার পরেও বাড়ির ব্যরাতে ঠাস করে লাগত।যার কারনে অনেক বকা খেত হত পাশের বাসার মামির কিংবা সেই গিট্টু নানার।সেই নানা দিনে অনেক ঘুমাত।এখানে একজন ব্যাটসম্যান, চারদিকে নির্দিষ্ট দূরত্বে চার বা পাঁচজন ফিল্ডার। অবাক হচ্ছেন? এটা ক্রিকেট নয়, ক্রিকেটের আমাদের সংস্করণ ডাংগুলি খেলা। খেলেছেন নিশ্চয়ই। হয়তো গুলির আঘাতে কপাল বা মাথা কেটে যাওয়ার চিহ্নও আছে আপনার শরীরে। ডানপিটে আর দুর্ধর্ষ বালকদের খেলা ছিল এই ডাংগুলি। দেড়–দুই ফুটের লম্বা ডাং বা লাঠি আর দুই–আড়াই ইঞ্চির ছোট লাঠি দিয়ে খেলা হতো এই ডাংগুলি। ক্রিকেটের মতোই। একজন ছোট লাঠি বা গুলিটিকে ছুড়ে দিচ্ছে ডাং বা লাঠি ধরে থাকা খেলোয়াড়ের দিকে। সে ক্রিস গেইলের মতো পিটিয়ে সেটাকে পাঠিয়ে দিচ্ছে যত দূরে সম্ভব। আবার মাটিতে পড়ার আগে ধরে ফেললেই ব্যাটসম্যান আউট। মনে পড়ছে কি আপনার শৈশবে খেলা দেশীয় ক্রিকেটর কথা? অঞ্চলভেদে এই খেলার নিয়মকানুনেও ভিন্নতা আছে।

657960fb0bfb4131378cf3d8fd40c527_default.jpg

image source
শৈশবের কথা লিখতে ধরলে যেন সব শৈশবের স্মৃতি এসে মনে বাসা বাধে,মন চায় কল্পনার মাঝে দিয়েই ডুবে যাই সেই শৈশবে। কিন্তু তা তো আর বাস্ত্যবে সম্ভব হয়ে উঠবে না।যার কারনে আজ শৈশব কে নিয়ে আমার লেখা যত কথা ।
আমরা যত ব্যস্তই থাকি আর যেখানেই থাকিনা কেন, শৈশবস্মৃতি আমার-আপনার পিছু ছাড়বে না। খেলতে পারার মতো বয়স বা সুযোগ কোনোটাই আমার-আপনার এখন নেই হয়তো; কিন্তু গল্পটা তো বলতে পারবো আমার-আপনার সন্তানকে।